‘আজকের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে একটা দেয়াল তৈরি হয়েছে’

1
‘আজকের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে একটা দেয়াল তৈরি হয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি: ‘আজকের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে একটা দেয়াল তৈরি হয়ে গেছে। শিক্ষকরা কেন ছাত্রদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, সেই দেয়াল কেন তৈরি হলো তার কারণ খোঁজা হয়নি। এর কারণ হলো, পারস্পরিক অবিশ্বাস।’

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) আয়োজনে ‘ড. জোহা : ছাত্র-শিক্ষক সম্প্রীত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র (তৃতীয় বিজ্ঞান) ভবনের ১৫০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খান ও সদস্য রাজিয়া সুলতানা সভা সঞ্চালনা করেন।

রাবিসাসের সাবেক সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, এই দিনে ছাত্রদের জন্য যেমন একজন শিক্ষক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন, তেমনি শিক্ষকের প্রাণ দেয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নুরুল ইসলাম ও আব্দুস সাত্তার নামে দুজন শিক্ষার্থীও নিহত হয়েছিলেন। এ ঘটনা ছাত্র-শিক্ষক সম্প্রীতির একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, ড. জোহা স্লোগান দিয়ে আসেন না। ফেসবুকে লেখা পোস্ট দিয়ে জোহা তৈরি হয় না। একজন জোহা তৈরি হতে অনেক সময় লাগে। একটা প্রেক্ষাপট লাগে। আমরা জোহার মুখোশ তৈরি করতে চাই না। ড. জোহা কখনও ঘোষণা দিয়ে আসেন না।

আলোচনা সভায় বক্তাদের অভিন্ন দাবি ছিল, ১৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শিক্ষক-ছাত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে সরকার কর্তৃপক্ষ কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া।

রাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহিন আলমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, রাবিসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন আব্দুল কাইয়ুম, সাবেক সভাপতি মুস্তাফিজ রনি, রাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ‘হ্যালো রাজশাহী ম্যাংগো’।

এর আগে ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্মম নির্যাতনে শহীদ ও ভাষা আন্দোলনে শহীদ অধ্যাপক ড. জোহার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আপনার মন্তব্য