আপত্তিকর ভিডিও করে চাঁদা দাবি: গ্রেফতার ৪

10
আপত্তিকর ভিডিও করে চাঁদা দাবি: গ্রেফতার ৪

দেশজুড়ে ডেস্ক: ফরিদপুরে এক নারীর সাথে এক আইনজীবীর (৪২) আপত্তিকর ছবি তুলে ও ভিডিও করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা প্রতারকচক্রের দুই নারীসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল।

সোমবার রাতে জেলার সালথা উপজেলা ফোকরা ও ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চার সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানিয়েছে, গত সোমবার স্থানীয় একজন আইনজীবী র‌্যাব ক্যাম্পে এসে লিখিত অভিযোগ করেন যে, একজন ভুক্তভোগী তার নামে হওয়া একটি মামলা পরিচালনা করার আলোচনার জন্য তার বাসায় যেতে বলেন। আইনজীবী তাকে তার চেম্বারে আসতে বলেন। বিষয়টি গোপনীয় ও পারিবারিক উল্লেখ করে চেম্বারে আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে আইনজীবীকে তার বাসায় যেতে অনুরোধ করেন ভুক্তভোগী।

আইনজীবী সরল বিশ্বাসে তার বাসায় যান। তখন তার বাসায় ভুক্তভোগী ছাড়াও আরও একজন নারী উপস্থিত ছিলেন। পরে ওই বাসায় হঠাৎ চারজন যুবক লোহার রড ও চাপাতিসহ প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক একজন মহিলার সাথে আপক্তিকর ছবি তুলে রাখে। পরবর্তীতে সেই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

ওই ঘটনায় ওই আইনজীবী ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্পে অবহিত করে সহায়তা চাইলে র‌্যাব বিষয়টির ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে যে, এ ঘটনার সাথে ফরিদপুরের সালথার মো. ফিরোজ মল্লিক (২১), সালথার ময়েনদিয়ার পারভীন আক্তার সাথী (২৭), সালথার তুঘলদিয়ার মো. রবি হাসান রানা (১৯) ও ঢাকার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার লাবিবা আক্তার (২১) জড়িত। তারা ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর মহল্লার ফয়সালের বাসায় ভাড়া থাকেন।

ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক দেবাশীষ কর্মকার বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ফোকরা গ্রাম থেকে মো. ফিরোজ মল্লিক ও পারভীন আক্তারকে এবং ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুরে ভাড়া বাসা থেকে মো. রবি হাসান রানা ও লাবিবা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায় তারা একটি প্রতারক চক্র। কখনো প্রেমের অভিনয়, কখনো কাজের কথা বলে তারা বিভিন্ন সময় পুরুষদের বাসায় ডাকে এবং অন্যান্য সহযোগীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কোতয়ালী থানায় চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছেন ওই আইনজীবী। এ মামলায় দুই নারীসহ ওই চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল বিকেলে জেলার মূখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য