আমের রাজ্যে রঙিন আম, ফিরছে আবার ফলসা

18
আমের রাজ্যে রঙিন আম, ফিরছে আবার ফলসা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে ফিরছে এবার হারিয়ে যাওয়া অপ্রচলিত ফল ফলসা। রাবি ফলসা-১ নামে নতুন ফলসার জাত উদ্ভাবন করেছে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র। একই সাথে উদ্ভাবন করা হয়েছে রপ্তানিযোগ্য বারি আম- ১৪ নামে আকর্ষনীয় জাতের আম। রঙিন এই আম এখন থেকে ঝুলবে রাজশাহীর বাগানগুলোতে। 

গত ৩১ ডিসেম্বর  নতুন এই দুই ফল নিবন্ধন সনদ পেয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন জাত হিসেবে ফলের রাজ্যে সংযোজন হলো রঙিন আম ও রাবি ফলসা। রোববার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন। 

তিনি বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর বারি আম-১৪ ও বারি ফলসা-১ নতুন ফলের ইনব্রিড জাত হিসেবে জাতীয় বীজ বোর্ডের প্রত্যয়ন পেয়েছে। বিষয়টি তিনি রোববার জানতে পারেন। 

ড. আলীম উদ্দিন বলেন, বারি আম-১৪ জাতটি সৌদি আরব থেকে সংগ্রহ করা। এর বিশেষত্ব আকর্ষনীয় রং। পাকলে এই জাতের আম গাঢ় তাম্রবর্ণ বা জমাটে লাল বর্ণ ধারণ করে। আমের রাজ্যে বারি আম-১৪ অদ্বিতীয়। দীর্ঘ দশ বছরের গবেষণায় আমের এই জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

রপ্তানীযোগ্য ও উচ্চফলনশীল আমের নতুন বারি আম-১৪ দেশের সর্বত্রই চাষযোগ্য। কিছুটা বিলম্বে জুলাইয়ের শেষের দিকে পাকে এই আম। গোলাকার প্রতিটি আমের ওজন অন্তত: ৫৬৯ গ্রাম। আমটির ৭৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ ভক্ষণযোগ্য।

এই আমের মিষ্টতা ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর রোগবালাই ও পোকামাকড়ের প্রার্দুভাব কম। আমের এই জাতটি নিয়মিত ফলদানকারী। বছরে হেক্টর প্রতি এই জাতের আমের উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ টন।

অন্যদিকে, বারি ফলসা-১ স্থানীয় একটি ফলের নতুন জাত। এই ফলটি হারিয়ে গিয়েছিলো বলা যায়। দীর্ঘ দশ বছরের চেষ্টায় বারি ফলসা-১ হিসেবে ফলসা ফিরো এলো। 

উচ্চফলনশীল বারি ফলসা-১ মে-জুন মাসে পাকে। ছোট ও গোলাকার প্রতিটি ফলের ওজন দশমিক ৬৬ গ্রাম। পরিপক্ক ফলের রং পুরোপরি বেগুনি হয়। এটির ৮৮ শতাংশই ভক্ষণযোগ্য। এই ফলের মিষ্টতা ২৪ শতাংশ। বছরে এই ফলের ফলন হবে ২০ কেজি।

ড. আলীম উদ্দিন আরো বলেন, বারি আম-১৪ ও বারি ফলসা-১ সমগ্র দেশে চাষযোগ্য। জাত নিবন্ধন পাওয়ায় এখন তারা চারা উৎপাদনে যাবেন। প্রথম পর্যায়ে সরকারী নার্সারীগুলোতে পাওয়া যাবে এই চারা। যত দ্রুত সম্ভব নতুন ফলের জাত দুটি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান তারা। 

আপনার মন্তব্য