আড়ানীতে মামা-ভাগনেকে কুপিয়ে জখম

12
রাজশাহীতে মাসব্যাপী উদ্যোক্তা মেলার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর আড়ানী পৌর এলাকায় এবার নির্বাচনী সহিংসতার শিকার হয়েছেন দুই মামা-ভাগ্নে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নুরনগর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার ওই দুজন হলেন-৪ নম্বর নুরনগর এলাকার মৃত ওবায়দুর রহমানের বজলুর রহমান (৪২) ও একই এলাকার মৃত শামশুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৮)।

বজলুর রহমান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আহত আরিফ হোসেন তার ভাগ্নে। এদের মধ্যে আরিফুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পেটে মারাত্মক যখম নিয়ে তিনি হাসপতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ ও সহকারী উপপরিদর্শক রুহুল আমীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন। আরিফুল ইসলামের পেতে ধারালো অস্ত্রের মারাত্মক যখম রয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়েছে।

একই সাথে হাসপতালে এসেছেন একই এলাকার বজলুর রহমান। তার শরীরেরও ধারালো অস্ত্রের একাধিক জখম রয়েছে। তিনি হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বজলুর রহমান বলেন, তারা মামাভাগ্নে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শহীদুজ্জামানের হয়ে নির্বাচনের কাজ করছিলেন। প্রার্থীর কাছ থেকে রাতে কেন্দ্রে খরচের টাকা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছিলেন।

নুরনগর মোড়ে পৌঁছাতেই তিনি একদল লোকজন নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর ছেলে রাজুকে দেখেতে পান। তার সঙ্গে মুক্তার আলীর সমর্থক আশিক, সজল, শরীফ ছিলেন। এছাড়া মুখবাঁধা আরও চারজন ছিলেন।

বজলুর রহমান বলেন, মুক্তারের ছেলের হাতে চায়নিজ কুড়াল ও আশিকের হাতে ডেগার ছিল। তারা ওখানে কী করছেন জানতে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশিক তার বগলের নিচ দিয়ে ডেগার ঢুকিয়ে দেন। এতে তিনি পড়ে যান।

পরে মুখবাঁধা অন্যরা এসে উপুর্যুপরি তার পিঠের ওপর চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকেন। তিনি মারা গেছেন ভেবে বালুর মধ্যে তাকে ফেলে চলে যান হামলাকারীরা। এরপর হাসপাতালে এসে জানতে পারেন তার ভাগনে আরিফের পেটেও আশিক ডেগার চালিয়েছেন।

বজলুর রহমানের দাবি, তিনি জানতে পেরেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার তাকে হত্যা করার জন্য আশিকের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার চুক্তি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলী।

এবিষয়ে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, নৌকার প্রার্থীকে ফোন করে তিনি জানতে পেরেছেন হামলার শিকার ও হামলাকারীরা পরস্পরের আত্মীয়। যারা আহত হয়েছেন, তারা নৌকার সমর্থক।

আর যারা হামলা করেছেন তারা নারকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক। এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়ে হামলাকারীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে এলাকার শান্তি বিনষ্টকারীদের কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ১২ বছর ধরে আড়ানীতে সকলের প্রচেষ্টায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই শান্তি বিনষ্ট করা জনগণ এবং আমি মেনে নেব না।

তিনি বলেন, নির্বাচন অবশ্যই শান্তিপ‚র্ণ পরিবেশে হবে। সকলের সহযোগিতার আহবান করছি। কারও অসহযোগিতার আভাস পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যার সম্প‚র্ণ প্রস্তুতি প্রশাসন গ্রহণ করেছে।

এর আগে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে আড়ানী পৌর এলাকার তালতলায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদের পথসভায় ককটেল হামলা হয়। ওই সময় ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ব্যক্তিগত চেম্বার ও নির্বাচনী কার্যালয়ে।

একই রাতে নৌকার সর্থকরা বিদ্রোহী মুক্তার আলীর ব্যক্তিগত চেম্বার ও নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন দেয় প্রতিপক্ষ। গোলাগুলিরও ঘটনা ঘটে। ওই রাতে এলাকার শতাধিক দোকানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে হামলাকারীরা।

হামলার রাতেই বাঘা থানায় মেয়র মুক্তার আলীসহ ৫৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদের ভাই কামরুজ্জামান নিপন। এই মামলায় অজ্ঞাত আসাামি করা হয় মেয়র মুক্তার আলীর ৪০০ থেকেথেকে ৪৫০ কর্মী-সমর্থককে।

পরদিন ১৪ জানুয়ারি বিকেলে পাল্টা মামলা দায়ের করেন মেয়র মুক্তার আলী। তাতে মেয়র প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদসহ ৫০ জনকে। অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকশ জনকে রাখা হয়েছে আসামির ওই তালিকায়। এই ঘটেনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

শনিবার (১৬ জানুয়ারী) আড়ানী পৌরসভায় ভোটগ্রহণ। এতে এতে নৌকা প্রতীকে অংশ নিয়েছেন শহিদুজ্জামান শহিদ। এছাড়া শীষ প্রতীক নিয়ে তোজাম্মেল হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। মেয়র মুক্তার আলী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থাকায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়ছে।

আপনার মন্তব্য