ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

10
ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

স্টাফ রিপোর্টার: কর্মরিবতি পালন করছেন রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সোমবার (১ মার্চ) সকালে হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে চিকিৎসকরা আন্দোলন শুরু করেন। এতে বিপাকে পড়েন হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, সম্প্রতি নোটিশ ছাড়াই হাসপাতালের অন্তত: ৮ জন চিকিৎসককে ছাঁটাই করা হয়েছে। রোববার থেকেই তারা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এর বাইরে তাদের আরো বেশকিছু দাবি দাওয়া আছে। সোমবার সকালে এনিয়ে তারা আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলন দমাতে কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এদিকে, সোমবার দুপুরের দিকে হাসপাতালটিতে গিয়ে তেমন রোগির ভীড় পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের রিসিপশনেও কর্মীদের অলস বসে থাকতে দেখা গেছে। সেখানকার একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করে জানান, হাসপাতালে দুপুর পর্যন্ত ৭৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে সোমবার সকাল থেকে ভর্তি হয়েছেন ৫ জন। এদের চার জনই সিজারিয়ন অস্ত্রপচারের জন্য ভর্তি হয়েছেন। সকাল আটটা থেকে দুপুর পর্যন্ত জরুরী বিভাগে সেবা নিয়েছেন ৫০ জন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, ভর্তির আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হয়। কিন্তু আজ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ভর্তি কাউন্টার থেকে জরুরী বিভাগে পাঠানো হচ্ছে। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক দেখে-শুনে রোগী ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মূলত: আন্দোলন করছেন ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে যেসকল চিকিৎসক হাসপাতালে দায়িত্বপালন করেন-তারাই। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও একেবারেই ভেঙে পড়েনি। ভোগান্তি জেনে রোগীরা অন্যত্র চলে যাচ্ছে বলেও স্বীকার করেন এই কর্মী।

এদিকে, আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান ১৮ বছরেও চাকরী বিধিমালা পায়নি হাসপাতালটির চিকিৎসকরা। সিনিয়র শিক্ষকদের যোগদানের সময় স্বল্প সময়ের (৬ মাস) চুক্তিবন্ধ করা হয়। চুক্তির নবায়ন হয় খেয়াল খুশিমত।

শর্ত অনুযায়ী চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের এক মাস আগে নোটিশ দিতে হবে। তা না করে নোটিশ ছাড়াই অসম্মাজনকভাবে চাকরি থেকে অব্যহতি দেয়া হয় চিকিৎসকদের। বিভাগীয় সিনিয়র অধ্যাপকের ঘাটতি থাকলেও চাকরি নবায়ন করা হয় না। গত ৬ বছর ধরে বেতন স্কেলের পরিবর্তন নেই। ফলে অনেক কম বেতনে চাকরি করছেন চিকিৎসক-কর্মচারীরা।

পার্টটাইম কাজেরও সুযোগ নেই। নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির সভা হয়না দীর্ঘদিন। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন যাবত একই পদে কর্মরত চিকিৎসকরা। এনিয়ে হতাশা এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে চিকিৎসকদের মধ্যে। এতে হাসতাপাতালে শিক্ষা ও চিকিৎসার মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।

মিড লেভেল শিক্ষকদের চাকরি নিয়মিত হয়নি দীর্ঘদিনেও। ফলে তারা ইনক্রিমিন্ট ও বোনাস পান না। সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়োগের সময় বিভিন্ন শিক্ষকদের সাথে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান তারা। বেতন-ভাতাও পান কর্তৃপক্ষের মর্জি মাফিক।

গত নয় মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষকদের টেকনিক্যাল ভাতা বন্ধ। অর্জিত ছুটি এমনকি হজ্ব পালনেও ছুটি নেই। অসুস্থতাজনিত ছুটি সাত দিন হলেও নৈমিত্তিক ছুটি শেষ হবার পরে সেটি মঞ্জুর হয়। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী মাতৃকালীন ছুটি ছয় মাস। কিন্তু এখানে এই ছুটি মাত্র ২ মাস। ওভারটাইম সুবিধা বন্ধ দুই বছর ধরে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অনিয়মের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক আনোয়ার হাবিবকে তার দপ্তরের পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসকদের সাথে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বৈঠক হয়েছে কর্তৃপক্ষের। দুপুরের পর থেকে কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে বৈঠক করছেন। অচিরেই এই সংকট কেটে যাবে বলেও জানান নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক এই কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য