একইসঙ্গে দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন যুবক

6
একইসঙ্গে দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিয়ের আগে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক জড়িয়েছেন কোন পুরুষ -এমন খবর প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু দুই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের দু’জনকে একইসঙ্গে বিয়ে করেছেন কোন যুবক – এরকম কী শুনেছেন কখনো? 

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে এরকমই এক ঘটনা ঘটেছে। চন্দু মুরিয়া নামে ওই যুবক তার দুই প্রেমিকা সুন্দরী কাশ্যপ এবং হাসিনা বাঘেলকে একই দিনে, একই মন্ডপে বিয়ে করেছেন সব সামাজিক রীতি মেনে। খবর বিবিসির।

গত রোববার বিয়ের পরে চারদিন ধরে চলেছে উৎসব। চন্দু এবং হাসিনার পরিবার বিয়েতে উপস্থিত থাকলেও সুন্দরীর বাড়ি থেকে কেউ আসেননি। মুরিয়া জনজাতির যুবক মুরিয়ার বয়স ২৪। তার থেকে বছর তিনেকের ছোট বড় স্ত্রী সুন্দরী। আর ছোট স্ত্রী হাসিনা চার বছরের ছোট। কিছুটা জমিজমা আছে চান্দু মুরিয়ার, তাতে চাষাবাদ করেন তিনি।

চান্দু মুরিয়া বলেন, বছর তিনেক আগে সুন্দরীদের গ্রামে গিয়েছিলাম কাজে। সেখানেই ওর সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপরে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মোবাইলের মাধ্যমে। সেখান থেকে প্রেম হয় আমাদের মধ্যে। তার বছর খানেকের মধ্যে হাসিনা আমাদের গ্রামে এসেছিল কোনও বিয়ে বাড়িতে।
 

তার কথায়, হাসিনাই আমাকে নম্বর দিয়ে ফোন করতে বলে। আমি ভেবেছিলাম বন্ধুত্ব পাতাতে চাইছে। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম শুধু বন্ধুত্বতেই আর ও থেমে থাকছে না। একদিন তো বলেই দিল যে সে আমার প্রেমে পড়েছে।

এতে চন্দু পড়ে যান মহা সমস্যায়। একদিকে সুন্দরীর সঙ্গে পুরনো প্রেম, আর অন্যদিকে তার জীবনে নতুন আগমন ঘটেছে হাসিনার। একদিন তিনি সুন্দরীকে জানিয়ে দিলেন বিষয়টা।
 

চান্দুর বড় স্ত্রী সুন্দরী বলেন, প্রথমে চন্দুর কাছ থেকে হাসিনার ব্যাপারে জেনে খারাপ লেগেছিল। কিন্তু তারপরে বললাম, আমি নিজেই হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। মোবাইলে কথা বলে আমার বেশ ভাল লেগেছিল। আমরা দু’জনে দু’জনকে বোন বলে ডাকতে শুরু করেছিলাম। আমাদের দু’জনের দেখাও করিয়ে দিয়েছিল চন্দুই।

এরই মধ্যে হাসিনা তার গ্রাম ছেড়ে চন্দুর গ্রামে চলে আসেন একসঙ্গে থাকবেন বলে। মুরিয়া আদিবাসী সমাজে বিয়ের আগেই যুবক-যুবতীর এক সঙ্গে থাকার চল রয়েছে।

এদিকে হাসিনা চন্দুর সঙ্গে থাকতে চলে এসেছেন জানতে পেরে সুন্দরীও এসে হাজির হন চন্দুর বাড়িতে। এরপর চন্দুর মা বলেন, ‘দু’জনকেই বিয়ে করো’। তবে সেটা অবশ্য সুন্দরীর পরিবার মানতে পারেনি। তাই তারা সুন্দরীকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
 

চান্দু বলেন, একদিন সুন্দরী বাড়ি থেকে পালিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসে। সেই থেকে আমরা তিনজনেই একসঙ্গে থাকছিলাম আমাদের বাড়িতে। বাবা-মা আর পরিবারের অন্যান্যরাও আছেন। আমার মা-ই একদিন বলেন যে বিয়ে করে নিতে। সমাজ থেকেও বলা হয়। কিন্তু আমি কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম।
 

সুন্দরী এবং হাসিনা অবশ্য এক কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলেন স্বামীকে ভাগাভাগি করে নিতে। কিন্তু দ্বিধা ছিল চন্দুর। তিনি বলেন, “দু’জনকে বিয়ে করলে বন্ধুরা হাসাহাসি করবে! একসঙ্গে যখন গ্রামে বের হবো, তখন লোকে কী বলবে, এসব ভাবনা কাজ করছিল আমার মাথায়। কিন্তু ওরা দুজন রাজী হয়ে যাওয়ায় আমিও আর না করিনি।”
 

বড় স্ত্রী সুন্দরী বলেন, “আমরা তিনজন তো বছরখানেক হয়ে গেল একসঙ্গেই আছি। কোনও সমস্যা হয় না আমাদের মধ্যে। সব কাজ মিলেমিশেই করি। আর হাসিনা তো আমার বোনের মতো। ওকে আমি ডাকিও বোন বলেই।”
 

আদিবাসী সমাজ এবং তিনটি পরিবার এই বিয়ে মেনে নিলেও আইন কী মানবে এই বহুবিবাহ?
 

আদিবাসী সমাজের নেতা প্রকাশ ঠাকুর বলেন, “এরা তিনজনই সাবালক এবং মুরিয়া সমাজের মানুষ। ওই সমাজে বহুবিবাহে কোনও বাধা নেই।”

আপনার মন্তব্য