28.4 C
Rajshahi
সোমবার, আগস্ট 8, 2022

কঠিন সময়ে নেই নৌ অ্যাম্বুলেন্স!

স্টাফ রিপোর্টার: চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁকা ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন। পদ্মার ওপারে অন্তত ২৫টি চর নিয়ে দুর্গম এলাকা। কার্যত মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় বাস লক্ষাধিক মানুষের। বর্ষায় লোকজন হয়ে পড়েন আরো বিচ্ছিন। অসুখ-বিসুখে পদ্মা তখন হয়ে যায় আরো দীর্ঘ। 

অন্তত: দু ঘণ্টা লাগে পাড়ি দিতেই। পারাপারে ভরসা কেবল ট্রলার ও নৌকা। উপজেলা কিংবা জেলার সদর হাসপাতালে পৌঁছাতে পথেই নিভে যায় জীবনপ্রদীপ।

এই পরিস্থিতেতে চরবাসীদের আশার আলো দেখিয়েছিল নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট ঘটা করে পাকা ইউনিয়নের পদ্মার বোগলাউড়ি ঘাটে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য  ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল  ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় এই অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছিল চরবাসী। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা ছিলো দ্রুতগতির এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সে।

কিন্তু বছর না ঘুরতেই স্বপ্নভঙ্গ হয় চরবাসীর। দীর্ঘদিন বিকল হয়ে পড়েই ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। সেবা বঞ্চিত হচ্ছিলেন চরবাসী।

বুধবার (৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ওপারের বর মো. মামুন ও নববধূ সুমি খাতুনকে আনতে তার বাবার বাড়ি পাঁকা ইউনিয়নে যাচ্ছিলেন বরের বাবা শরিফুল ইসলামসহ স্বজনরা। ওপারের পাঁকা ইউনিয়নের তেলিখাড়ি ঘাটে পৌঁছার পর বৃষ্টির কবলে পড়লে আশ্রয় নেন পদ্মাপাড়ের অস্থায়ী ছাউনিতে। 

সেই ছাউনিতেই চমকা বজ্রপাত হয়। এতে বর পক্ষের ১৬ জন এবং স্থানীয় এক মাঝিসহ ১৭ জন মারা যান। কমবেশি আহত হন বাকিরা। মুহূর্তেই তৈরী হয় বিভীষিকাময় পরিস্থিতির। দ্রুত হতাহতদের হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন পড়ে।

কিন্তু কঠিন সেই সময়ে পাড়ে নেই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। তখনও ভরসা নৌকা। এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে স্থানীয় মাঝিরা নিজেদের নৌকায় হতাহতদের পদ্মার এ পারে পৌঁছে দেন।

নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব ছিলো পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের হাতে। ওই সময় নৌ-অ্যাম্বুলেন্স জানতে কয়েক দফা চেষ্টা করেও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীনের মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এনিয়ে তার মন্তব্য মেলেনি। 

তবে পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই সময় নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি পদ্মার বোগলাউড়ি ঘাটেই ছিল। 

সেটি অচল, নাকি সচল-জানতে চাইলে সচিব বলেন, গত ১ জুলাই তিনি এই ইউনিয়নে যোগদান করেছেন। ওই সময় নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে পদ্মার ঘাটে পড়ে ছিল। গত ১০ জুলাই ঢাকা থেকে মেকানিক এনে সেটি মেরামত করা হয়েছে।

ঈদের পর নৌ-অ্যাম্বুলেন্সে চেপে চর এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে বজ্রপাতে হতাহতদের  বহণের তথ্য তার কাছে এই মুহূর্তে নেই।

জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়রা খান জানিয়েছেন, নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি দেখভালের দায়িত্ব পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের উপর ন্যাস্ত। তারা কি-ভাবে ব্যবহার হবে সেটিও দেখবে ইউনিয়ন পরিষদ। কেনো সেটি ব্যবহার হচ্ছেনা না কি হচ্ছে সেটি আমরা জানিনা।

 ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় সরকারী অ্যাম্বুলেন্স থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে দেখলে সেটি অবশ্যই আমাদের আওতায় থাকার কথা ছিলো। কিন্তু কোন রোগী কখন আসবে, কার দরকার হবে এবং কে কোথা থেকে নিবে-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে আমরা বিষয়টি বুঝতে পারবোনা। 

পুরো উপজেলায় না, যেহেতে এটি কেবল পাঁকা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ, সেহেতু ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় থাকা অযৌক্তিক না। 

এবিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব-আল-রাব্বি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা স্থল থেকে মাঝিদের নৌকায় করে হতাহতদের সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সদরে ফায়ার সর্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়েছিলো। আমি নিজে গিয়ে অন্তত: সাত জনকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়েছি।

তিনি জানান, পদ্মার যে ঘাটে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখান থেকে জেলা সদর নিকটেই। আর অ্যাম্বুলেন্সটি থাকে পদ্মার বোগলাউড়ি ঘাটে। সেখান থেকে এই পারে পৌঁছাতে অন্তত: ২ ঘণ্টা সময় লাগে। 

এই রকম আরোও খবর

ফেসবুকে আমাদের ফলো করুন

0Fansমত
3,429অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
0গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ খবর