করোনাকালে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ভরসা কেবল ‘আল্লাহ’

46
করোনাকালে অ্যাম্বুলেন্স

স্টাফ রিপেোর্টার: রাজশাহী বিভাগের ছয় জেলার করোনা  রোগির চিকিৎসা চলছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।

করোনা চিকিৎসায় রামেক হাসপাতালে চালু করা হয়েছে আলাদা ওয়ার্ড। রাজশাহীর খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতানে খোলা হয়েছে আইসোলেশন ইউনিট।

প্রতিদিনই করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন লোকজন। এছাড়া করোনা নিয়েই হাসপাতালে আসছেন কেউ কেউ।

রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়ার পর রোগিদের ভরসা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। তাদের সাথে রয়েছে হাসপাতালের নার্স।

জরুরী বিভাগ থেকে করোনা পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড, আইসিইউ এমনকি মিশন হাসপাতালে রোগি আনা নেয়া করতে হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষনিক এ কাজেই যুক্ত।

রামেক হাসপাতালের আট চালকের ছয় জনই যুক্ত করোনাযুদ্ধে। করোনাযোদ্ধা চিকিৎসক-চিকিৎসাকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা হলেও চালকদের সেটি হয়নি। দিন শেষে বাড়ি ফিরছেন এসব চালক। কেবল নিজে নন, ঝুঁকিতে ফেলছেন পুরো পরিবারকে।

রামেক হাসপাতালের প্রধান অ্যাম্বুলেন্স চালক আশরাফুল আলী বলেন, তারা সবসময় রোগিদের নিয়েই কাজ করেন। বিয়ষটি সেইভাবেই নিয়েছে পরিবার। নিজেরা যেমন এই সংকটকালে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কাজ করছেন, পরিবারের ভরসাও তা-ই।

তিনি বলেন, গত ১ এপ্রিল থেকে করোনা রোগি বহন শুরু হয়েছে রামেক হাসপাতালে। শুরুর দিকে তারা চিকিৎসক-নার্সদেরমত কোয়ারেন্টাইন চেয়েছিলেন।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সল্প সময় রোগিদের সংস্পর্শে থাকা এবং নিরাপদ দূরত্ব থেকে দায়িত্বপালনের কারণে এটির প্রয়োজন নেই। তবে শুরু থেকেই পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রি পাচ্ছেন তারা।

রোগি বহন তাদের প্রধান দায়িত্ব। আর দায়িত্বপালনে গিয়ে এখনো চালকদের কেউ অসুস্থ হয়ননি। কারো করোনা পরীক্ষাও হয়নি।  অসুস্থ হলে পরীক্ষাসহ চিকিৎসায় সবধরণের ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

একই ভাষ্য হাসপাতালের আরো কয়েকজন চালকের। তারা জানিয়েছেন, অনেক সময় করোনা রোগিদের সাথে  তাদের কোন স্বজন থাকেননা। ওই সময় চালকরাও নার্সদের সাথে রোগিদের ওঠা-নামায় হাত লাগান। গাড়িতে ওঠার সময় পুরো সুরক্ষা নিয়েই ওঠেন তারা। তার পরও শঙ্কা থেকেই যাই।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস। তিনি বলেন,  সবখানেই সংক্রমণ ঝুঁকি রয়েছে। রামেক হাসপাতালও এর বাইরে নয়। ঝুঁকি জেনেই সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছেন চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা। অ্যাম্বুলেন্স চালকরা এদের বাইরে নন।

তিনি আরো বলেন, করোনা রোগি বহনে রামেক হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্স কাজ করছে। চালকসহ অ্যাম্বুলেন্সে থাকা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়েই থাকেন। রোগি বহনের পর পুরো অ্যাম্বুলেন্স জীবাণুমুক্ত করা হয়। রোগি আনা নেয়া ছাড়াও  প্রয়োজনে নমুনা সংগ্রহেও যায় রামেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স।

রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জনের দপ্তর জানাচ্ছে,  শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী বিভাহে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ জনের। রাজশাহী জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে এসেছেন মাত্র ২২ জন।  করোনা নিয়ে রামেক হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। কিন্তু সিভিল সার্জনের দপ্তর মাত্র এক জনকে রামেক হাসপাতাল অদ্বি পৌঁছে দিয়েছে।

বিয়ষটি নিশ্চিত করে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, করোনা রোগি বহনে তারা নয় উপজেলার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ রেখেছেন। খবর পেলে এই অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে যাবে রোগির দরজায়।

তবে নমুনা সংগ্রহে যায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এর আলাদা দল। রোগি বহন এমনকি নমুনা সংগ্রহ সবখানেই পুরোপরি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

আপনার মন্তব্য