করোনাপ্রতিরোধী স্প্রে আবিষ্কারের দাবি বাংলাদেশি গবেষকদের

8
মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে ঢাকায় নামছে ভ্রাম্যমাণ আদালত
People queue to collect subsidised food items during a government-imposed nationwide lockdown as a preventive measure against the COVID-19 coronavirus, in Dhaka on April 26, 2020. (Photo by MUNIR UZ ZAMAN / AFP)

জাতীয় ডেস্ক: নাসারন্ধ্র, মুখ গহ্বর এবং শ্বাস ও খাদ্যনালির মিলনস্থলে অবস্থান করা করোনাভাইরাস ‘ধ্বংস করতে সক্ষম’- এমন একটি ‘সলিউশন’ তৈরির দাবি করেছে বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিকেল মেজারমেন্টস-বিআরআইসিএম।

রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের এই ওষুধ নাক ও মুখে স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। এর নাম তারা দিয়েছে ‘বঙ্গোসেইফ ওরো নেইজল স্প্রে’। গতকাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রথমবারের মতো বিষয়টি সামনে আনে বিআরআইসিএম।

বৈঠকে বিআরআইসিএমের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০০ জন কভিড-১৯ রোগীর ওপর এই স্প্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে তা ‘নিরাপদ ও কার্যকর’ প্রমাণিত হয়েছে।

বঙ্গোসেইফ কভিড-১৯ রোগীদের ‘ভাইরাল লোড কমিয়ে মৃদু ঝুঁকি হ্রাস’ করার পাশাপাশি ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণে’ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকদের ভাষ্য।

সংসদীয় কমিটির সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, কমিটি আরও বড় পরিসরে এই স্প্রেটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করতে বলেছে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) এবং সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে অনুমোদন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এই স্প্রে কীভাবে কাজ করে জানতে চাইলে বিআরআইসিএম-এর মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মালা খান বলেন, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য আমরা এখন যতকিছুই করছি, তার সবই প্রিভেন্টিভ।

মাস্ক পরছি, বা যাই করছি না কেন। আমরা এখন পর্যন্ত যা জানি, তা হলো, এই ভাইরাসটা আক্রমণ করে মুখ, চোখ ও নাকের মাধ্যমে। সেখানে ভাইরাস কিছুকাল অবস্থান করে।

আমরা যে সলিউশন তৈরি করেছি, সেটা যদি কেউ ৩-৪ ঘণ্টা পর পর স্প্রে করে, তাহলে নাক, নাসিকারন্ধ্র, মুখ গহ্বর এবং শ্বাস ও খাদ্যনালির মিলনস্থলে (ওরোফেরিংস) অবস্থান করা করোনাভাইরাস ধ্বংস হবে। এতে দুটো সুবিধা হবে। এক, কেউ যদি সংক্রমিত ব্যক্তির কাছাকাছি যান এবং সংক্রমণ ঘটে, তাহলে এই স্প্রে ভাইরাস ধ্বংস করবে।

 আক্রান্ত ব্যক্তি যদি ব্যবহার করেন, তার ভাইরাল লোড (ভাইরাসের পরিমাণ) কমে যাবে।

ইতিমধ্যে ‘বঙ্গোসেইফ ওরো নেইজল স্প্রে’র পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছেন। আন্তর্জাতিক পেটেন্টের জন্য সিঙ্গাপুরেও আবেদন করা হবে।

 তবে বিআরআইসিএম-এর মহাপরিচালক মালা খানের দাবি, তারাই প্রথম এ কাজে সফল হয়েছেন। পৃথিবীতে আমরাই মানবদেহে এই সলিউশন পরীক্ষা করেছি। আমাদের পরে ফ্রান্স একটা করেছে, কিন্তু সেটার স্যাম্পল সাইজ মাত্র পাঁচজন।

কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হকের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে কমিটির সদস্য ইকবালুর রহিম, মো. হাবিবে মিল্লাত, মো. শফিকুল আজম খান, নিজাম উদ্দিন হাজারী, মো. মোজাফ্ফর হোসেন, শিরীন আহমেদ এবং সেলিমা আহমাদ অংশ নেন।

আপনার মন্তব্য