কাজিরহাট-আরিচা রুটে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

4
কাজিরহাট-আরিচা রুটে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

পাবনা: কাজিরহাট-আরিচা রুটে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রায় এক যুগ পর এ রুটে ফেরি সার্ভিস চালু হচ্ছে। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পাবনার কাজিরহাট প্রান্তে কাজিরহাট-আরিচা রুটে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন।

এ সময় নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, এ নৌরুট চালু হওয়ায় যাত্রী ও যানবাহনের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। তারা দ্রুত সময়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজনে এ রুটে ফেরি আরও বাড়ানো হবে। মুজিববর্ষের অন্যতম উপহার এই ফেরিঘাট।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার আগে ও পরে দেশে-বিদেশে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র এখনও চলমান। এখন দেশের সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হচ্ছে। কারণ তিনি একটি আদর্শ, একটি ইতিহাস, একটি বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান। সারাবিশ্ব যখন বঙ্গবন্ধুকে সম্মান দেখাচ্ছে, তখন রাজাকারের দোসররা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করে। বঙ্গবন্ধু ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে রয়েছেন।

তিনি বলেন, পাওয়ার প্ল্যান্ট, ইকোনমিক জোন বা অন্য কোনো উন্নয়নের কথা বলে নদী দখল করা যাবে না। আমরা নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করছি। ব্যবসায়িক স্থাপনাকে ঘিরে কেউ নদীর জায়গা দখল করতে চাইলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। পাওয়ার প্ল্যান্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের জায়গায়, ইকোনমিক জোন ইকোনমিক জোনের জায়গায় হবে। কিন্তু যখন এটা নদীর জায়গায় আসবে তখনই সমস্যা।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট নিরসন ও কাজিরহাট টু আরিচা ঘাট চ্যানেলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১০টি ড্রেজার দিয়ে বালু অপসারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বের চ্যানেল খনন করা হয়েছে। নতুন করে এই চ্যানেল খুলে দিতেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউর রহিম লাল, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ ও পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

এ সময় বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু, সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন, রুপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম উজ্জল, মাসুমদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিরোজ হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। এ সময় সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরিচা- কাজিরহাট রুটে প্রাথমিকভাবে চারটি ফেরি চলাচল করবে। কাজিরহাট থেকে আরিচা যেতে সময় লাগবে এক ঘণ্টা এবং আসতে সময় লাগবে দেড় ঘণ্টা। ফেরিতে ওঠার জন্য বড় বাসকে ২ হাজার ৬০, ট্রাককে এক হাজার ৪০০ ও মাইক্রোবাসকে এক হাজার টাকা করে গুনতে হবে। আর ছোট গাড়ির জন্য ৬৮০ টাকা, মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা এবং জনপ্রতি যাত্রীর ভাড়া ২৫ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে নগরবাড়ী-আরিচা রুটে প্রথম ফেরি চলাচল শুরু হয়। ফলে নগরবাড়ী অঞ্চল বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ রুটে প্রথম ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৯ মাস পর ২০০৮ সালের ২ মে এ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু করা হয়। ওইদিন কে টাইপের ‘কস্তুরি’ নামে একটি ফেরি দিয়ে নগরবাড়ী (কাজিরহাট) থেকে যানবাহন পারাপার শুরু করা হয়। কিন্তু এক দিন পর ওই ফেরি বিকল হয়ে পড়লে মেরামতের জন্য তা পাঠানো হয় পাটুরিয়া নৌ কারখানায়। বিকলের অজুহাতে আবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আপনার মন্তব্য