ক্ষোভে, প্রতিরোধে উত্তাল ইতিহাসের ৫ মার্চ আজ

12
ক্ষোভে, প্রতিরোধে উত্তাল ইতিহাসের ৫ মার্চ আজ

জাতীয় ডেস্ক: ক্ষোভে, প্রতিরোধে উত্তাল ৫ মার্চ, ১৯৭১। বাঙালীর চোখে শুধুই স্বাধীনতার স্বপ্ন। দেশজুড়ে মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ। আগুনঝরা মার্চের তারিখ এগোনের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের গতি তীব্র হচ্ছিল। চারদিকে স্বাধিকার আন্দোলন জোরদার করার কাজ চলছে। অসহযোগের মাধ্যমে আন্দোলন এগিয়ে যায় স্বাধীনতার অবশ্যম্ভাবী ও যৌক্তিক পরিণতির দিকে।

পাশাপাশি মৃত্যুর সংবাদ আসছে প্রতিদিন। কিন্তু ঘাতকের বুলেট মৃত্যুর মিছিল বাড়িয়ে দিলেও রুখতে পারেনি মুক্তিকামী বাঙালীর উত্তাল আন্দোলন।

বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের ডাক এবং স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের পর নড়েচড়ে বসে পিন্ডির শাসকগোষ্ঠী। মুক্তিকামী বাঙালী পথে নেমেছে। ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’-স্লোগানে প্রকম্পিত টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার রাজপথ। অন্যদিকে লাকনায় ভুট্টোর প্রাসাদে ইয়াহিয়া-ভুট্টো ডুয়েল ষড়যন্ত্রে ২০ হাজার বাঙালীর লাশ হলেই আন্দোলন থেমে যাবে-ভুট্টোর এই অভিলাষ বাস্তবায়ন করতে নেমে পড়ে পাকি হানাদার বাহিনী। রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ।

একাত্তরের এই দিনে, ৫ মার্চ চট্টগ্রামে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেন ২২২ বীর বাঙালী। তাঁদের রক্তে ভেসে যায় বীর চট্টলার রাজপথ। টঙ্গীতে গুলিবর্ষণে হতাহত হয় ১৮ জন। যশোরেও নিহত হন মুক্তিকামী এক বাঙালী যুবক। এমন গণহত্যার সংবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, মিছিল-প্রতিবাদ সভায় কেঁপে ওঠে অত্যাচারী শাসকের ভিত।

এ দিনে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে ৩২৫ কয়েদি মিছিল করে শহীদ মিনারে চলে আসে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেয়। অবশ্য কারাগারের ফটক ভাঙ্গার সময় প্রহরীর গুলিতে সাত কয়েদিকে প্রাণ হারাতে হয়।

জনতার ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে একাত্তরের এই দিনে পালিত হয় দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল। মুক্তিকামী বাঙালীর উত্তাল ও অপ্রতিরোধ্য দুর্বার আন্দোলনে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর ভিত নড়ে ওঠে। নিরীহ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ থেকে শুরু করে সব ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বাড়লেও দমেনি বাংলার প্রতিবাদী মানুষ। ঐতিহাসিক মার্চের এই দিনে ঘটে আরও অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণাকে অবাঞ্ছিত ও অগণতান্ত্রিক ঘোষণা করে বেলুচিস্তান ন্যাপ।

এছাড়া ‘সংখ্যাগুরু দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশের সংহতি রক্ষা করা অপরিহার্য’ বলে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আসগর খান মন্তব্য করেন। মাওলানা গোলাম গাউস হাজারী জানিয়ে দেন, পশ্চিম পাকিস্তানের সব নির্বাচিত সদস্যের পক্ষ থেকে ভুট্টোর কথা বলার অধিকার নেই। মানিক গোলাম জিলানী বলেন, অবিলম্বে সংখ্যাগুরু দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী এসব নেতার কারও বক্তব্যকেই গুরুত্ব দেয়নি। এদিকে প্রতিটি বাঙালীর চোখে তখন স্বাধীনতার স্বপ্ন। সবাই ভাবছে কবে আসবে সেই দিনের ডাক, সেদিন দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে তারা একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে যুদ্ধে এবং পাবে একটি স্বাধীন দেশ।

ঐতিহাসিক স্বাধীনতার মার্চ মাস স্মরণে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ সেমিনারে দেশের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক ও গবেষকরা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ওই ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

আপনার মন্তব্য