খবর পেলেই পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ

16
খবর পেলেই পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার: রোববার দিবাগত রাত নয়টা। হন্তদন্ত হয়ে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় ঢুকলেন ফাতেমা বেগম। দায়িত্বরত ডিউটি অফিসারকে জানালেন, তার স্বামী আনারুল ইসলাম বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

ওই নারীর দাবি, ভাইদের সাথে পারিবারিক বিরোধ মিটাতে গিয়েছিলেন আনারুল। সেখানেই ভাইয়েরা তার উপর চড়াও হন। হয়তো তাকে বিষপাণে বাধ্য করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল নগরীর রাজপাড়া থানাধীন হড়গ্রাম নিউমার্কেট। কিন্তু ফাতেমা বেগমের বাড়ি নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন গুড়িপাড়া গোলজারবাগ এলাকায়। রামেক হাসপাতাল নগরীর রাজপাড়া থানাধীন। সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে পাঠিয়েছেন কাশিয়াডাঙ্গা থানায়।

প্রাথমিক তথ্য নিয়ে ডিউটি অফিসার ফাতেমা বেগমকে নিয়ে গেলেন ওসির কক্ষে। ওই সময় ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। সামনের চেয়ারে বসিয়ে ওসি ওই নারীর মুখে শুনলেন ঘটনা।

পরে জানালেন, ঘটনাস্থল নগরীর রাজপাড়া থানা এলাকায়। আইনত তারাই এনিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি ওই নারীকে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি জানাতে বললেন। আইনী সহায়তা নিতে আসা ওই নারীকে রিকশায় তুলে দিতে গেলেন থানার এক পুলিশ সদস্য।

ওই সময় বেজে উঠলো ফাতেমা বেগমের মোবাইল ফোন। ওই প্রান্ত থেকে মেয়ে তাকে জানালেন-বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শোডাউন দিচ্ছেন তার চাচারা। ফিরে এসে সেই খবর ওসিকে জানালেন ফাতেমা। সাথে সাথে ওসি একদল পুলিশ পাঠালেন ঘটনাস্থলে। পুলিশ পৌঁছানোর খবরে পালিয়ে যায় অপরাধীরা।

স্বামীর অবস্থা বেগতিক দেখে পরে আর থানায় জাননি ফাতেমা বেগম। বিষয়টি মোবাইলে তিনি ওসি এসএম মাসুদ পারভেজকে জানিয়েছেন। ফাতেমা বেগম জানান, সময়মত তার বাড়িতে পুলিশ না পৌঁছালে বাড়িতে থাকা তার ছেলে-মেয়েদের করুণ পরিণতি বরণ করতে হতো।

আপাতত কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের সেবায় সন্তুষ্ট ফাতেমা বেগম। তিনি জানান, স্বামীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তিনি আইনী ব্যবস্থা নেবেন। তিনি যোগ করেন, পুলিশ তো মানুষের জন্যই। এই মানুষের কাজে না আসলে কি দরকার?

কি রাত কি দিন খবর পেলেই দ্রুতই পৌঁছে যাচ্ছে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ। আইনী সেবা নিতে পয়সা খরচ হচ্ছেনা। বাড়তি ভোগান্তিও নেই। এতে পুলিশের উপর আস্থা ফিরেছে নগরীর এই অঞ্চলের মানুষের।

বিষয়টি উঠে এসেছে থানায় সেবা নিতে আসা আরো কয়েকজনের ভাষ্যেও। ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ দায়িত্ব নেয়ার পর বদলে গেছে থানা এলাকার দৃশ্যপট। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি কিংবা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছেনা লোকজনকে। উল্টো পুলিশই পৌঁছে যাচ্ছে সেবা প্রার্থীর দরজায়।

সরাসরি মামলায় না গিয়ে ছোটোখাটো বিরোধ বিট পুলিশের মাধ্যমেই নিস্পতি করছে কাশিয়াডাঙ্গা থানা। এতে এলাকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সূত্র বলছে, গত নয় মাসে ১৮৮টি বিরোধ নিস্পতি করেছে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ। এর মধ্যে গত গত সেপ্টম্বর মাসেই নিষ্পত্তি হয়েছে ৫০টি বিরোধ। এছাড়া আগস্টে ৩৫, জুলাইয়ে ১৭ এবং জুনে ১১টি বিরোধ নিস্পত্তি করে বিট পুলিশ।

মাদক ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ। নগরীর অন্যতম মাদক স্পট গুড়িপাড়ায় বহিরাগতদের চলাফেরার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। ভেঙে দেয়া হয়েছে সেখানকার বহুদিনের প্রতিষ্ঠিত মাদক ব্যবসা। বাধ্য হয়ে অন্য থাকা এলাকায় গিয়ে এখানকার কেউ কেউ মাদক কারবার করছেন।

জানা গেছে, এই বছরের জানুয়ারীতে থানায় মাদক সংক্রান্ত মামলা রেকর্ড হয়েছে ৫০টি। ফেব্রুয়ারীতে তা নেমে আসে ৪১ এ। এরপর মার্চে রেকর্ড হয়েছে মাদকের ২৬টি মামলা। এপ্রিলে তা নেমে আসে মাত্র ৫টিতে। এবছরের মে মাসে থানায় মাদকের মামলা হয় ১০টি।

এর পরের জুন ও জুলাই মাসে ৬টি করে মামলা হয়েছে মাদকের। এছাড়া আগস্টে ১৪টি এবং সেপ্টেম্বরে ২৯টি মামলা হয়েছে। গত নয় মাসে থানায় চোরাচালানের মামলা হয়েছে ১৪টি। এর মধ্যে গত তিন মাসেই হয়েছে আটটি মামলা।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, আরএমপি কমিশনারের নির্দেশে কাজ করছেন এলাকার পুলিশ সদস্যরা। এই কর্মকাণ্ড তদারক করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসি এবং এসি। ইউনিট প্রধান হিসেবে তিনি পুরো টিমকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরীর এই অঞ্চলে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদক নিমূলে কাজ করছে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই নাগরিকদের সেবায় থানার দরজা সবসময় খোলা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ জনবান্ধব পুলিশ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন বলে জানান ওসি।

আপনার মন্তব্য