চার বছরেও কাউন্সিলরকে পরিষদে ঢুকতে দেননি মেয়র!

137
কাউন্সিলরকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন কাঁকনহাটের মেয়র!

স্টাফ রিপোর্টার: মেয়াদের প্রায় শেষের দিকে রাজশাহীর কাঁকনহাট পৌরসভার বর্তমান পরিষদ। কিন্তু মাত্র বছরখানেক পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরেছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহীল কাফি।

বাকি প্রায় চার বছর তাকে পরিষদে ঢুকতেই দেননি মেয়র আবদুল মজিদ। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়। এতে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত জন। 

এই পরিষদ শপথ নেয় ২৪ জানুয়ারী। মেয়রের সাজানো মামলার প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখান্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আইনী প্রক্রিয়ায় তিনি ফেরার চেষ্টা করেও ফিরতে পারেননি পৌরসভায়। 

মেয়রের অনিয়মের প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই মেয়র তার সাথে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর আব্দুল্লাহীল কাফি।  

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মেয়র মজিদের সাথে তার রাজনৈতিক বিরোধ। আবদুল মজিদ বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন। এখন তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। শুরুতে তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০০২ সালে পৌরসভা গঠন হলে ক্ষমতাশীন দলের নেতা হিসেবে পৌর প্রশাসক হন আবদুল মজিদ। 

ওই সময় তিনি পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন থেকেই তার সাথে মেয়র মজিদের রাজনৈতিক বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। 

কাফি আরও জানান, ২০০২ সাল থেকে এই পর্যন্ত মেয়রের চেয়ারে থাকা আবদুল মজিদের নানান অনিয়ম তার সামনে আসে। এনিয়ে তিনি দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন। মেয়রের অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে পরিষদের অন্য কাউন্সিলরাও তার সাথে যোগদেন। পরে তারা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৪ জুন পরিষদ থেকে ১০ বস্তা গম ছিনতাইয়ের মিথ্যা মামলা দায়ের করেন মেয়র। ওই বছরের ৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ। এরপর ১৭ জুলাই আদালতে ওই অভিযোগপত্র গৃহিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১০ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখান্ত করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ। এনিয়ে তিনি ৬ নভেম্বর উচ্চ আদালতে রীট করেন । পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের সেই আদেশ স্থগিত করে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ নেন।

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মেয়র তাকে দায়ত্বভার বুঝিয়ে দেনননি। এরপর ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারী তিনি  স্থানীয় সরকার বিভাগে আবেদন করেন। এরপর ২৯ জানুয়ারী এই আদেশ প্রতিপালনের নির্দেশ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। 

এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি দায়ত্বভার বুঝিয়ে পাননি।  ফলে প্রতিশ্রৃুতি অনুযায়ী এলাকার মানুষের জন্য কোন কাজই তিনি করতে পারেননি। আর এ জন্য মেয়র মজিদকেই দায়ি করেছেন আব্দুল্লাহীল কাফি।

এ বিষয়ে জানতে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও মেয়র আবদুল মজিদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পৌরসভার সচিব রবিউল ইসলাম বলেন, বিধি অনুযায়ী ওই কাউন্সিলরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরে তিনি রীট করেন।

পরে  আদালত স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশ স্থগিত করে দেন। তিনি শুনেছেন, মেয়র মেয়র এই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করেছেন। ফলে কাউন্সিলর আর পৌরসভায় ফিরতে পারেননি। এসময় মেয়রের সাথে ওই কাউন্সিলের রাজনীতিক বিরোধের কথা স্বীকার করেছেন সচিব। 

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান বলেন, তিনি এখানে নতুন যোগদান করেছেন। এই বিষয়টি তার জানা নেই। নথিপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। 

আপনার মন্তব্য