জয় বঞ্চিত শিবগঞ্জ পৌরসভায় জয়ের আশা আ’লীগের

10
জয় বঞ্চিত শিবগঞ্জ পৌরসভায় জয়ের আশা আ'লীগের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় এ পর্যন্ত মেয়র হতে পারেননি আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। কখনো বিএনপি, কখনো জামায়াত কিংবা বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

কিন্তু এবার নৌকা সমর্থকদের জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সৈয়দ মনিরুল ইসলাম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের সাবেক সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মনিরুল দীর্ঘদিন ধরেই নৌকার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রয়েছেন ভোটের আগার প্রচারে।

জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ শিবগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচন হবার কথা। একই সাথে জেলার আরো তিন পৌরসভাসহ দেশের ৩২৯ পৌরসভায় ভোট হবার কথা।

আসন্ন পৌর নির্বাচন ঘীরে ক্ষমতাশীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপির মেয়র পদ প্রত্যাশীরা নেমে পড়েছেন ভোটের মাছে। পিছিয়ে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে ভোটের আগেই জমে উঠছে ভোট। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারের দরজায় যাচ্ছেন। কুশল বিনিময় করছেন, দোয়া চাইছেন, দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। ভোটাররাও যোগ্য প্রার্থী বেছে ভোট দেয়ার কথা বলছেন।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত শিবগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র হতে পারেননি আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা। ক্ষমতাশীন এই দলটি চাইছে এবার মেয়রের চেয়ার দখলে নিতে। কিন্তু তাকে প্রধান বাধা বিএনপি। রয়েছে জামায়াতের নানান হিসেব-নিকেশ। তার উপর আওয়ামী লীগের বিরোধী পক্ষতো রয়েছেই। তবুও এই পৌরসভায় নৌকাকে জেতানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম।

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপিপন্থী মোতাহারুল ইসলাম ঘেটু। সেইবার তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জাফর আলী। ওই নির্বাচনে কোন প্রার্থীই ছিলোনা আওয়ামী লীগের। তবে কিন্তু তৎকালীন জাসদ নেতা ও পরে আওয়ামীলীগের পৌর সাধারন সম্পাদক সব্বের আলীকে সমর্থন দেয় দলটি।

এরপর ২০০০ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী জাফর আলী মেয়র নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দ্বিতীয় হলেও আওয়ামীলীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিল হন তৃতীয়।

২০০৬ এবং ২০১১ সালের পর পর দুটি নির্বাচনেই মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা শামিম কবির হেলিম। এই দুই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ধারে কাছেও যেতে পারেননি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এর মধ্যে ২০০৬ জামায়াতের প্রার্থী ও সাবেক মেয়র জাফর আলী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। দলীয় প্রতীকে প্রথম এবং ২০১৫ সালের নির্বাচনেও এই পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ময়েন খান জামানত হারান।

পৌরসভা গঠনের আগে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত শিবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ছিলো। ওই সময়কার কোন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হতে পারেননি কেউই। হারের চাপা কষ্ট দীর্ঘদিন ধরেই বয়ে বেড়াতে হচ্ছে এই এলাকার নৌকার কর্মী-সমর্থকদের।

কিন্তু এবার জয়ের স্বপ্ন দেখছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সাবেক ছাত্র নেতা ও সমাজকর্মী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে নানান কর্মসূচি নিয়ে এলাকায় রয়েছেন তিনি। পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক করে দলকে সুসংগঠিত করেছেন সৈয়দ মনিরুল। করোনা মহামারীতেও দুর্গতদের সেবায় ছুটেছেন দিনরাত এককরে। তার প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জিকে ফাউন্ডেশন’ করোনাকালে শিবগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছে মানবিক সহায়তা।

সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সময় থেকেই সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ওইসময় তিনি শহীদ সালাম-বরকত হলের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। আর এ কারণেই ২৭ বিসিএস এ ২৩ তম হয়েও তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়ে চাকরীতে যোগদান করতে পারেননি।

এরপরে সৈয়দ মনিরুল ইসলাম নিজস্ব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ব্যবসার পাশাপাশি সমাজসেবায় অংশ নিতে প্রতিষ্ঠা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জিকে ফাউন্ডেশন’। বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রানান্তকর চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দ মনিরুল।

জানতে চাইলে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শের রাজনীতি করে আসছি। রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিবিরের নানান ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হয়েও কখনো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে কথা বলতে পিছপা হইনি। রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত জনতার পাশে ছিলাম, এখনও আছি। কখনও দলের সঙ্গে বেইমানি করিনি। আশা করি, দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী পৌর নির্বাচনে শিবগঞ্জ থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

আপনার মন্তব্য