36.7 C
Rajshahi
বৃহস্পতিবার, মে ১৯, ২০২২

‘তাম্রবর্ণ’ পাচ্ছে ল্যাংড়া, বারি-৪ মিলবে সারা বছর

স্টাফ রিপোর্টার: আমের রাজা ল্যাংড়া। স্বাদ ও গন্ধে অদ্বিতীয় এই আম পাওয়া যায় মৌসুমের শুরুতেই। আমের জনপদ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ ছাড়িয়ে ল্যাংড়ার বিস্তুৃতি এখন দেশজুড়েই। সুমিষ্ট ল্যাংড়া এবার রঙিন হচ্ছে। সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া বারি-১৪ জাতের আমের গাঢ় তাম্রবর্ণ বা জমাটে লাল বর্ণ পাচ্ছে ল্যাংড়া।

এনিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। বারি-৪ আম বছরজুড়ে ফলানোর গবেষণাও চলছে একই সাথে। কাটিমন জাতের আমের সংকরায়নে আসবে আমের নতুন এই জাত। তবে এখনই নয়, নতুন এই দুটি আমের জাত পেতে অন্তত সাত বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে আম চাষি ও বাগান মালিকদের।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে নতুন আমের জাত উদ্ভাবনে শুরু হয়েছে গবেষণা। এতে অংশ নিচ্ছেন ফল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী হাসান ওয়ালিউল্লাহ ও ড. জিএম মোরশেদুল বারী ডলার।

ফল গবেষণা কেন্দ্র জানাচ্ছে, বারি-১৪ আমের জাতটি গত ৩১ ডিসেম্বর অনুমোদন পেয়েছে। এটি মূলত: সৌদি আরব থেকে আনা। পাকলে এই জাতের আম গাঢ় তাম্রবর্ণ বা জমাটে লাল বর্ণ ধারণ করে। আকর্ষনীয় রঙের কারণে আমের রাজ্যে বারি আম-১৪ অদ্বিতীয়। দীর্ঘ দশ বছরের গবেষণায় আমের এই জাতটি উদ্ভাবন করেছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

ফল গবেষণ ড. জিএম মোরশেদুল বারী ডলার বলেন, তাদের লক্ষ্য বারি-১৪ আমের আকর্ষনীয় রং প্রচলিত ল্যাংড়া আমের আনা। প্রতিবছর ল্যাংড়ার ফলন পাওয়া যায়না। এক বছর পর পর গাছে মুকুল আসে। বারি-১৪ আমের সাথে সংকরায়নের ফলে প্রতিবছরই ফল আসবে। দেশের প্রথম সংকর জাতের আম বারি-৪।

দেশি নাবি জাত আশ্বিনার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে আনা রঙিন আমের শঙ্করায়নে নতুন এই জাতের উদ্ভব ১৯৯৩ সালে। মৌসুমের শেষ আম হিসেবে আশ্বিনার পর পাকে উচ্চফলনশীল জাতের এই আম। এরই মধ্যে আমের রাজধানী রাজশাহী অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে বারি-৪ জাতের আম। কাঁচা অবস্থায় টক না থাকায় কাঁচামিঠা আমের মত খাওয়া যায় এই আম। পাকলে বারি-৪ আম হয়ে ওঠে আকর্ষনীয় রঙের। কিন্তু বছরে একবারই ধরে বারি-৪।

ফল গবেষক ড. জিএম মোরশেদুল বারী ডলার জানাচ্ছেন, তারা সারা বছর রাবি-৪ আম ফলাতে চাইছেন। বছরে তিন বার ধরে কাটিমন আম। কাটিমনের এই বৈশিষ্টটি বারি-৪ জাতের ভেতরে আনা হবে। কাটিমন জাতের সংকরায়নে আসা নতুন আমের জাতটি বছরজুড়েই ফলন দেবে। কিন্তু তাতে বারি-৪ আমের সকল বৈশিষ্ট্য থাকবে।

তিনি আরো বলেন, নতুন জাত উদ্ভাবন দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। প্রতিটি ধাপের অর্জন নথিভূক্ত করতে হয়। এনিয়ে বিশদ গবেষণাও চলে। টানা সাত থেকে দশ বছর পর আসে সাফল্য। নতুন এই দুটি আমের জাত পেতে অন্তত: সাত বছর অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে, মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের আমবাগানগুলো। চারদিকে মধুর ঘ্রাণ। কেবলই ভ্রমরের গুঞ্জন। পরিচর্যায় বাগানে বাগানে আমচাষি ও বাগান মালিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে আমবাগান। বাণিজ্যিক আমবাগান গড়ে উঠছে বিশেষ করে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে। কেবল আম বাগান নয়, বেড়েছে আম উৎপাদনও।

আঞ্চলিক কৃষি দফতরের হিসেবে, এবছর (২০১৯-২০২০) রাজশাহী অঞ্চলে মোট আমবাগান রয়েছে ৮১ হাজার ১৫ হেক্টর। এর মধ্যে রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর, নওগাঁয় ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর, নাটোরে ৫ হাজার ৫১৯ হেক্টর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর।

Related Articles

আপনার মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your name here
Please enter your comment!

Stay Connected

0Fansমত
3,312অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
0গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
- Advertisement -spot_img

Latest Articles