দুর্ণীতির মামলায় গোদাগাড়ীর সেই ব্যাংক কর্মকর্তা জেলে

4
মামলা করতে রোববার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে প্রতিনিধিদল

স্টাফ রিপোর্টার: দুর্ণীতির মামলায় অগ্রণী ব্যাংকের বরখাস্ত হওয়া প্রিন্সিপাল অফিসার ও গোদাগাড়ী শাখা ব্যবস্থাপক আহসান হাবীব নয়নকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে রাজশাহীর জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেলের দিকে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।

নয়ন রাজশাহীর বহরমপুর, ব্যাংক কলোনী এলাকার হারেজ উদ্দিনের ছেলে। গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গত ২৭ জানুয়ারি তার নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমিন মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২।

ওই মামলায় সোমবার দুপুরে জামিন চেয়ে তিনি আদালতে হাজির হন। কিন্তু আদালত তার সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এই তথ্য নিশ্চিত করে মামলার বাদি ও দুদক সহকারী পরিচালক আল-আমিন বলেন, তার শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ২০১৯ সালের ১৬ জুন ব্যাংকের গ্রাহক সাবের আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি।

আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। যা দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর এ কারণেই তার বিরুদ্ধে বর্ণিত ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুর অনুরোধ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে মামলার বাদি উল্লেখ করেন, রাজশাহীর ই/আর নং ৫১/২০১৯ মামলার অভিযোগ অনুসন্ধান সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রাহক সাবের আলী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাবের আলী ট্রেডার্স’ এর অনুকূলে একটি ১০ (দশ) লক্ষ টাকার এসএমই সিসি (হাইফো) ঋণ সুবিধা ভোগ করছেন, যার হিসাব নং ০২০০০০৯৫৭৭৫৯৪। হিসাবটি ২০১৯ মে নবায়ন করেন। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর যা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়।

অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে গ্রাহক সাবের আলী ২০ আগস্ট নিজে উপস্থিত হয়ে ১০ হাজার টাকার একটি চেক দিয়ে টাকা ‍উত্তোলনের সময় তার ব্যাংক হিসাবের স্থিতি জানতে চান। সেই প্রেক্ষিতে ব্যাংক থেকে তার ঋণ হিসাবের স্থিতি জানানো হয়। তখন তিনি ৬ লাখ টাকার গড়মিল পান।

পরে তিনি ব্যাংক হতে প্রাপ্ত ঋণ হিসাব বিবরণী যাচাই করে দেখেন, ২০১৯ সালের ১৬ জুন ৪৩০৮১৭২ নম্বর চেকের মাধ্যমে তার সিসি ঋণ হিসাব হতে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন হয়েছে।

এর এক সপ্তাহ আগেতৎকালীন ব্যবস্থাপক আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন গ্রাহক সাবের আলীর কাছ থেকে ঋণ হিসাব শূন্য করার নামে ফাঁকা চেক নেন। তার বাড়ি থেকে ব্যাংকের অস্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী আফজাল হোসেন সই করে চেকটি নিয়ে আসেন।

আফজাল হোসেন সেই চেক ব্যাংকে এনে আহসান হাবীব নয়নকে দেন। ওই চেক নিজ হাতে পুরণ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপক।

ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার আবু বকর সিদ্দিক চেকের প্রথম ক্যানসেলেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকলেও তাকে এড়িয়ে আহসান হাবীব নয়ন নিজেই চেক ক্যানসেলেশন করেন। পরে কাউন্টারে গিয়ে ক্যাশ অফিসার আকতারুজ্জামানকে চেকটি ক্যাশ কর টাকা তার রুমে নিয়ে আসতে বলেন।

আকতারুজ্জামান চেকটি পোষ্টিং করার জন্য পাশের সিটে অবস্থিত সিডি ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিকের হাতে দেন। আবু বকর সিদ্দিক চেকটি কম্পিউটারে পোস্টিং দিয়ে ক্যানসেলেশন করে পুনরায় আকতারুজ্জামানকে দেন।

শেষে আকতারুজ্জামান চেকটি ক্যাশ করে এক হাজার টাকার ছয়টি বান্ডেলে ৬লাখ টাকা তৎকালীন ব্যবস্থাপক আহসান হাবীব নয়নের কক্ষে গিয়ে বুঝিয়ে দেন।
গ্রাহক সাবের আলী দাবি করেছেন তিনি নিজে ওই টাকা উত্তোলন কিংবা গ্রহণ করেননি। এনিয়ে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শাখা ব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন তিনি। বিষয়টি তদন্তের জন্য অগ্রণী ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী হতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। ২৬ সেপ্টেম্বর কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে আহসান হাবীব নয়নের ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। ব্যাংকের কেন্দ্রীয় তদন্তেও অভিযুক্ত হন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা তদন্তেও আহসান হাবীব নয়নের প্রতারণা ও জালিয়াতির সত্যতা উঠে আসে। এরপর ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রাহক সাবের আলী শাখা ব্যবস্থাপকের নামে মামলা দায়ের করেন।

আপনার মন্তব্য