ধর্ষণের পর প্রেমিকাকে বখাটেদের হাতে তুলে দেন প্রেমিক!

28
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ সভাপতির নামে মামলা

দেশজুড়ে ডেস্ক: পূর্ব পরিচয়ের সূত্রধরে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভনে ঢাকা থেকে স্বামী পরিত্যক্ত এক তরুণীকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ডেকে আনা হয়। এরপর তাকে ধর্ষণ করে প্রেমিক।

নিজে ধর্ষণ শেষে স্থানীয় যুবকদের হাতে তুলে দেন প্রেমিকাকে। পরে পালিয়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন তরুণী। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি কারখানায় কাজ করার সময় ওই তরুণীর (২০) সঙ্গে পরিচয় হয় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার চাষকপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে শাহাদত হোসেনের (২০)। তরুণীর বাড়ি ফরিদপুর জেলার চক হরিরামপুর গ্রামে।

পরিচয়ের সূত্র ধরে শাহাদত প্রায়ই ওই তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে গত মাসে শাহাদত তাকে গোবিন্দগঞ্জে আসতে বলেন। ওই তরুণী তার এক বান্ধবীসহ গোবিন্দগঞ্জে এসে দেখা করে চলে যান।

পরবর্তীতে শাহাদতের সাথে মোবাইল ফোনে সম্পর্ক আরো গভীর হয়। এ অবস্থায় বখাটে শাহাদত তাকে গোবিন্দগঞ্জে আসতে বললে গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি গোবিন্দগঞ্জে আসেন।

রাতে স্থানীয় একটি হোটেলে শাহাদত তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন তিনি কয়েকজন যুবকের হাতে তুলে দেন তরুণীকে। তারা গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে আটকে রেখে তাকে পালক্রমে ধর্ষণ করে।

দুইদিন ধরে আটক থাকার পর শুক্রবার তরুণী ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে বেরিয়ে লোকজনের সহায়তায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় উপস্থিত হন। এ সময় তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চাষকপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে শাহাদত হোসেন (২০), ফুলবাড়ি ইউনিয়নের নাচাই কোচাই গ্রামের রহমান সরকারের ছেলে জহুরুল সরকার (২৬), পৌরসভার বোয়ালিয়া (নয়াপাড়া) গ্রামের আ. হামিদের ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫), থানাপাড়া (কসাইপাড়া) গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে জাহিদ হাসান (২৭)। 

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য