ধর্ষণের বিচার না পেয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

18
‘বকেয়া ভাড়ার জন্য’ ভাড়াটিয়াকে পিটিয়ে হত্যা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ধর্ষণের বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে সামিয়া খাতুন সাম্মি নামের এক স্কুলছাত্রী। 

গত ১ সেপ্টেম্বর রহনপুর ইউনিয়নের মিরাপুর তিনপুকুর এলাকার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। 

রহনপুর রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া সাম্মি মিরাপুর তিনপুকুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামের মেয়ে।  

জানা যায়, ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য সালিস বসে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে ভুক্তভোগী সেই টাকা না নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। পুরো ঘটনায় পুলিশের কোনো ধরনের ভূমিকা ছিল না বলে অভিযোগ নিহত সাম্মির নানি মার্জিনা বেগমের।

সামিয়া খাতুন সাম্মির নানা তিনকড়ি জানান, মরার আগে সাম্মি বলেছিল ‘আমি টাকা চাই না। ছেলেকে চাই। টাকা নিয়ে তোমরা মীমাংসা কোরো না। আমি নয়নকে বিয়ে করব।’ সাম্মির নানি মার্জিনা বলেন, ধর্ষণের বিচার না পেয়েই মার্জিনা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।  

সালিস বসে ৩০ আগস্ট রবিবার সন্ধ্যায়। সাম্মি মারা যায় ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে। 

সাম্মির নানি মার্জিনা অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ আগস্ট সাম্মিকে তুলে নিয়ে যায় প্রতিবেশী কেতবুলের ছেলে নয়ন (১৮)। এরপর তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে।

তার পরের দিন সে নির্যাতিত হয়ে ফেরত আসে। মারধরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ওই দিনই তারা থানায় অভিযোগ দিতে যান। কিন্তু মামলা না নিয়ে থানা পুলিশ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফি আনসারীর মাধ্যমে মীমাংসার কথা জানায়। 

তবে আমরা মীমাংসায় বসতে চাইনি। বিচার চেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের আইনী সহায়তা দেয়নি।

তিনি জানান, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় মীমাংসার সময় চেয়ারম্যান শফি আনসারীর নেতৃত্বে দুই ইউপি সদস্য বাবর আলী ও মনিরুল ইসলাম মনির উপস্থিত ছিলেন। 

সালিসে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও দুই সদস্য। এ সময় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ছেলেকে।

তবে সাম্মি বিষয়টি মেনে না নিয়ে বিয়ের দাবি জানায়।

স্কুলছাত্রী আত্মহনের ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোতাহার আলী জানান, এ ঘটনায় গোমস্তাপুর থানায় একটি ইউডি মামলা (নং-১৩) হয় ১ সেপ্টেম্বর। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। 

মোতাহার আলী আরো জানান, কোথাও সালিস হয়েছিল কি না জানা নেই, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এ ঘটনার পর নয়নের পরিবার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। তাদের হদিস পায়নি পুলিশ।

অন্যদিকে, রহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফি আনসারী জানান, সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিস হয়েছিল। তবে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। 

আপনার মন্তব্য