নিয়ামতপুরে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

4
নিয়ামতপুরে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নিয়ামতপুর:  নিয়ামতপুরে ফসলের মাঠে মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। ফসলের মাঠ যেন সবুজের বিছানা হয়ে দাড়িয়ে আছে। যতদুর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। কৃষকের মনে দোলা দিচ্ছে অন্যরকম আমেজ।

চলতি বছর আমন মৌসুমে এখন পর্যন্ত সময়মত আকাশের বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দেখা দিয়েছে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে নিয়ামতপুর উপজেলায় ২৯হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমন চাষ করা হয়েছে ২৯হাজার ৭৮৫হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ৩০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। চলতি মৌসুমে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৪.৩৬ মেঃ টন ধান।

উপজেলার বিভিন্ন আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত আমনের গাছ বেশ ভাল রয়েছে। আমনের ক্ষেতে তেমন কোন রোগ বালাই দেখা যাইনি। আমনের গাছ ভাল রাখতে আর ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা দিন রাত নিরলোস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

কৃষকরা এখন ক্ষেতের পোকামাকড় দমন করতে ঔষধ স্প্রে করা, জমির পানি দেখাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এখন যেন দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠছে আমনের গাছ। মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে আমন গাছের পাতা। এর সাথে আনন্দে দুলছে কৃষকদের মন।

এবারে মাঠের ফসলে তেমন কোন রোগ বালাই না থাকায় বেশ হাসিখুশি রয়েছেন কৃষকরা। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান কৃষকরা।

উপজেলার বাতপাড়া গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা, তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গির আলম, দিঘীপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম সেন্টু জানান, এ বছর আমন ক্ষেত এখন পর্যন্তু ভাল রয়েছে।

আকাশের পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আর তেমন কোন প্রকার রোগ বালাই না থাকার কারনে এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিজাম উদ্দীন জানান, আমি নিয়ামতপুর সদর ইউনিয়নে প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে কাজ করি এবং কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে থাকি। ধানকে রোগ বালাই থেকে রক্ষা করে ফলন কিভাবে বাড়ানো যাবে সে বিষয়ে সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছি।

তবে কীটনাশকগুলো স্প্রে করার পূর্বে অবশ্যই কোন কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে অথবা অভিঙ্গ কীটনাশক ব্যবসায়ীদের থেকে পরামর্শ নিয়ে স্প্রে করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার আমীর আব্দুল্লাহ মোঃ ওহায়েদুজ্জামান জানান, এবারে আমাদের লক্ষ মাত্রা ছাড়িয়ে আমন চারা রোপন করা হয়েছিল। কিন্তু বন্যায় কিছু ধান নষ্ট হয়েছে।

আগামী ১০/১৫দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে বলে আশা করা যায়। তবে যে পরিমান ধান এখন বর্তমান মাঠে রয়েছে তা আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে।

আপনার মন্তব্য