পর্নোগ্রাফি মামলায় প্রকৌশলীর সাজা

10
স্টাফ রিপোর্টার: সম্পত্তি হাতাতে মিথ্যা দাদা দাবি করেছিলেন আইয়ুব আলী নামের এক ব্যক্তি। এ জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলাও করেন। আদালতে শুনানী চলাকালে হাজির করেন সাজানো সাক্ষি। কিন্তু জেরার মুখে সেই সাক্ষি ফাঁস করে দেন আসল ঘটনা। তাতেই ধরা পড়ে যায় জারিজুরি। সম্পত্তি তো পাননি উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে বাদি আইয়ুব আলীকে। একই সাথে সেই মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। সোমবার জনাকীর্ণ আদালতে রাজশাহীর (তানোর) সহকারী জজ আদালতের বিচারক আলমগীর হোসেন এই রায় দিয়েছেন। ধূর্ত আইয়ুব আলী রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাসিন্দা। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আক্তারুজ্জামান লিটন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণে জানা গেছে, মমিন মণ্ডল নামের এক ব্যক্তিকে আপন দাদা (পিতামহ) দাবি করে তার সম্পত্তিতে অংশ চেয়ে তানোর সহকারী জজ আদালতে ৫৩/১২ অপ্র মামলা করেন আইয়ুব আলী। বাদি উল্লেখ করেন, মমিন মণ্ডলের সন্তান করিম বক্স ও এলাহী বক্স। এদের মধ্যে করিম বক্স তার বাবা এবং এলাহী বক্স চাচা। আদালত সূত্র জানাচ্ছে, আইয়ুব আলীর হয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিতেও আসেন এলাহী বক্স। তিনি আদালতকে জানান, বাদী আইয়ুব আলীর দাদা মমিন মণ্ডল নন, আলিম মণ্ডল। এলাহী বক্সের সাক্ষ্যের সঙ্গে বাদীর দাবির আরও অনেক গরমিল ধারা পড়ে আদালতে। এছাড়াও পুরাতন খতিয়ান ও সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে বেরিয়ে আসে মমিন মণ্ডলের দুই সন্তান হায়াত বক্স ও আতেজান। কিন্তু সম্পত্তিতে ভাগ বসাতে মমিন মণ্ডলকে মিথ্যা দাদা দাবি করেন আইয়ুব আলী। মামলাটি মিথ্যা প্রতিপন্ন হওয়ায় আদালত বাদী আইয়ুব আলীকে ১০ হাজার টাকা খরচারোপ করেন। একই সাথে মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। খরচার এই অর্থ বিবাদী প্রাপ্ত হবেন বলেও আদেশ দেন আদালত।

স্টাফ রিপোর্টার: এক ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অপরাধে পর্ণোগ্রাফি মামলায় এক প্রকৌশলীকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহ্ মোহাম্মাদ জাকির হাসান এ রায় দেন।

ওই ছাত্রী ঢাকার আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায়।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন, নগরীর মতিহার থানার অক্ট্রোয় মোড় এলাকার মৃত প্রবীর কুমারের ছেলে পার্থ প্রতীম ঘোষ (৩০)। তিনিও ঢাকার আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পাস করেছেন। তিনি একটি মোবাইল কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন প্রতীম। এরপর তার নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। সেই ছবি দেখিয়ে মেয়েটির বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাাঁদা দাবি করেন।

সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ছাত্রী। ওই মামলায় স্বাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বৃহস্পতিবার বিচারক এ রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। আসামিপক্ষে ছিলেন মোহন কুমার সাহা।

আপনার মন্তব্য