28.4 C
Rajshahi
সোমবার, আগস্ট 8, 2022

পাওনা টাকা দেয়ার নামে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিন ধরেই রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদক কারবার ও অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেন হচ্ছিলো বিকাশে। কোথায় যাচ্ছে, কার কাছে যাচ্ছে-এনিয়ে প্রশ্ন ছিলোনা পৌর এলাকার মাদারপুর এলাকার মুদি ও বিকাশ ব্যবসায়ী রুহুল আমীনের (৪৫)। 

কিন্তু সর্বশেষ আড়াই লাখ টাকা পাঠিয়েও বিকাশ ব্যবসায়ীকে টাকা দেননি মাদক কারবারী মতিউর রহমান রুবেল (৩৫)। পাওনা টাকা চাওয়ায় উল্টো বিকাশ ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন রুবেল ও তার লোকজন।

হামলায় ব্যবহৃত চাপাতি

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গোদাগাড়ীর মাদারপুর মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার রুহুল আমীন ওই এলাকার মৃত দাউদ আলীর ছেলে।

মাথা ও দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর যখম নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তিনি। মুমূর্ষু অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাকে (রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়।

হামলাকারী  মতিউর রহমান রুবেল একই এলাকার ইসরাইল হোসেনের ছেলে। তিনি গোদাগাড়ীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুল ইসলামের শ্যালক। ঘটনার পর থেকে রুবেল ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে।

হামলার শিকার বিকাশ ব্যবসায়ী রুহুল আমীনের ছেলে সাব্বির শাহরিয়ার জানান, গত দুদিন আগে রুবেলের কথামত তারা বিকাশ থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু সেই টাকা পরিশোধ করেননি রুবেল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ফোন করে রুবেলের কাছে পাওনা টাকা চান। কিন্তু নানান অজুহাতে রাতে দেবেন বলে জানান রুবেল। এরপর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পাওনা টাকা দেয়ার নামে তার বাবাকে নিজ পরিত্যক্ত গোডাউনের সামনে ডেকে নেন। 

পৌঁছা মাত্রই ধারালো চাপাতি দিয়ে তার বাবার মাথায় উপর্যুপুরি আঘাত করেন রুবেল। হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করায় দুই হাতেও মারাত্মক যখম হয়। তার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

সাব্বির আরও জানান, মাদারপাড়া মোড়ে সাগর স্টোর নামে তাদের মুদি দোকান রয়েছেন। সেখান থেকেই তারা বিকাশ ব্যবসা করেন। মাছ চাষ, খামার এবং ডিলারশিপের নামে তাদের বিকাশ থেকে বিভিন্ন জায়গায় প্রায়ই মোটা অংকের টাকা পাঠাতেন রুবেল। 

অনেক সময় তিনি না এসে মোবাইলেই টাকা পাঠাতে বলতেন। পরে এসে সেই টাকা পরিশোধ করতেন।  কিন্তু সবর্শেষ আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ না করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।

হামলাকারী রুবেল। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে।

স্থানীয়রা বলছেন, কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার ভাইয়েরাও এই কাণ্ডে যুক্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। মাদক কারবারে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন তারা। 

কাউন্সিলর মনিরুল ইসলামের মাদক কারবার দেখভাল করেন তারই শ্যালক রুবেল। রুবেলের রয়েছে আলাদা অনলাইন জুয়ার কারবার। তিনিও গড়ে তুলেছেন আলাদা সন্ত্রাসী বাহিনী। মাদক কারবার ছাড়াও মাদক ছিনতাইয়েও জড়িত তারা। 

অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননা। আইন-শৃংখলা বাহিনী জেনেশুনেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়না। ফলে দিনকে দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক কারবারীরা।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি মাদক কারবারেও যুক্ত নন। কিন্তু কিভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকায় তার নাম গেলো সেটিও তিনি জানেননা। 

তিনি স্বীকার করেন, তার শ্যালক রুবেল মাদক নয়, অনলাইন জুয়ায় যুক্ত। বিভিন্ন সময় বিকাশ পেমেন্ট করে ডলার কিনতেন। এই কারবারে যুক্ত হয়ে মোটা অংকের অর্থ খুইয়েছেন রুবেল। 

এবিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন,  তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। আহতের স্বজনরা থানায় এসেছেন অভিযোগ দিতে। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনত ব্যবস্থা নেবে। ঘটনার পেছনের কারণ তদন্ত করে বের করা হবে বলেও জানান ওসি।

এই রকম আরোও খবর

ফেসবুকে আমাদের ফলো করুন

0Fansমত
3,429অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
0গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ খবর