প্রযুক্তি দিয়ে অপরাধীদের নজরে রাখবে আরিএমপি

22
আরএমপির পূর্ণাঙ্গ সাইবার ক্রাইম ইউনিট চালু

স্টাফ রিপোর্টার: সবধরণের প্রযুক্তির ব্যবহার করে অপরাধীদের গতিবিধি নীবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। আর এ জন্যই পূর্ণাঙ্গ সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রতিষ্ঠা হয়েছে নগর পুলিশের।

বৃহস্পতিবার আরএমপি সদর দপ্তরে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরএমপি কমিশনার বলেন, মাদক প্রবণ রাজশাহী অঞ্চলে মাদকের চোরাচালান ও চলাচল বেশি রয়েছে। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে মাদককারবারিদের পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ, গতিবিধি ও চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তাদের ফোন রেকর্ডসহ ফোনের রুট সহজেই শনাক্ত করা যাবে। 

জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণেও সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ করবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, এই ইউনিটের মাধ্যকে পুরো অঞ্চলে জঙ্গিদের যোগাযোগ অ্যাপসগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করা হবে। এতে জঙ্গি কার্যকলাপের পূর্বাভাষ আগাম জানতে পারবে পুলিশ। সে অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে সাইবার ক্রাইমসংক্রান্ত সব অভিযোগ ও মামলা রাজশাহী নগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত হবে। সেসব মামলা তদন্ত করবেন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা। অপরাধীকে শনাক্ত করে তারাই অপরাধীকে গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। 

কমিশনার বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান হারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে তথ্যপ্রযুক্তি তথা সাইবার ক্রাইমসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাও। সন্ত্রাসীরাও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করছে। আরএমপির সাইবার ইউনিট এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।

একসময় সাইবার ক্রাইম অপরাধের তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার সহায়তা নেয়া হতো। তবে এখন থেকে রাজশাহীতে এ ধরনের অপরাধের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও অপরাধী শনাক্ত নিজেরাই করতে পারবে পুলিশ।

মূলত: ফেসবুক ও টুইটারের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেউ অপরাধে জড়াচ্ছে কিনা অথবা সন্দেহভাজনরা এই দুটি মাধ্যম ব্যবহার করে কোনো সাইবারসহ অন্যান্য অপরাধ করছে কিনা তাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট। আগামী এক মাসের মধ্যে এই ইউনিটের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। সাইবার ক্রাইম অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে দেশের মধ্যে রাজশাহীতে এটি পুলিশের তৃতীয় ইউনিট।

এটি চলবে নগর পুলিশের উপকমিশনার সদর ও বিশেষ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ কমিশনার রাশিদুল হাসান এবং কাশিয়াডাঙ্গা জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরীর নেতৃত্বে। এতে দায়িত্বপালন করবেন নগর পুলিশের তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত ও একটি চৌকস টিম।

উদ্বোধনীতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) সুজায়েত ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) সালমা বেগম প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য