বাস চালাচ্ছেন করোনায় কর্মহীন শিক্ষক!

482

স্টাফ রিপোর্টার: মহামারি করোনা সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলেছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষগুলোকে। কাজ হারিয়ে বেকার অনেক পেশাজীবি।

প্রাণঘাতি করোনায় মৃত্যুভয় তুচ্ছ করেছেন পেশায় শিক্ষক আমির হোসেন। সংসারের চাকা সচল রাখতে শক্ত হাতে ধরেছেন যাত্রীবাহী বাসের স্টেয়ারিং। অনেকটা বাধ্য হয়ে এই পথে নেমেছেন তিনি।

আমির হোসেন রাজশাহী সরকারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) মোটর ড্রাইভিং উইথ বেসিক মেইনটেন্যান্স কোর্সের প্রশিক্ষক। ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে রাজশাহী টিটিসিতে কর্মরত তিনি।

আমির হোসেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কৈলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা। করোনায় রাজশাহী টিটিসি বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন তিনি।

২০১২ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বছর ধরে ভারি মোটরযান চালিয়েছেন আমির হোসেন। ২০১৩ সালের শুরুতে প্রশিক্ষক হিসেবে সরকারের একটি প্রকল্পে কর্মজীবন শুরু করেন।

বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় সদস্যের পরিবার চলে একমাত্র তার আয়েই। মেয়ে নাসরিন আক্তার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

একমাত্র ছেলে সিহাবুর রহমান মহেশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সংসার খরচ ছাড়াও সন্তানদের পড়ালেখার খরচও যোগান দিতে হয় তাকেই।

আমির হোসেনের ভাষ্য, তার আয়ের একমাত্র উৎস চাকরি। কিন্তু করোনায় টিটিসি বন্ধ থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে আবারো আগের পেশায় ফিরে গেছেন।

১৪ জুন থেকে মহেশপুর-ঢাকা রুটে আল-মুবারাকা পরিবহণের যাত্রীবাহী বাস চালাচ্ছেন। কখনোই ভাবেননি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়বেন। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি জেনেও সংসারের চাকা সচল রাখতেই তিনি ঝুঁকি নিচ্ছেন। সেইপ প্রকল্পে কর্মরত প্রত্যেকেরই একই দশা।

জানা গেছে, সেইপ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬১ টিটিসি, ২১ টিএসসি এবং ২১ বিআরটিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই কোর্স চালমান। দেশে দক্ষ চালক তৈরীতে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এর আওতায় ওই ১০৩ ইনস্টিটিউটে একজন করে অতিথি প্রশিক্ষক, সহকারী এবং মেকানিক কর্মরত। রয়েছেন আরবি ও ইংরেজি ভাষার দুজন প্রশিক্ষকও। করোনায় এরা সবাই এখন কর্মহীন। করোনায় বিপর্যন্ত হলেও এদের কেউই পাননি সরকারী সহায়তা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ মোটর ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আমির হোসেন বলেন, তারা করোনাকালে সহায়তা চাননা। কেবল চান চাকরির স্থায়ী বন্দোবস্ত। সেটি না হলেও করোনাকালে নিয়মিত সম্মানির নিশ্চয়তা চান। যাতে তারা পরিবার নিয়ে চরম মানবিক সংকটে না পড়েন।

জানতে চাইলে রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, সেইপ কোর্সের প্রশিক্ষনার্থীরা করোনাকালে বিশেষ সহায়তা পাচ্ছে। কিন্তু প্রশিক্ষকসহ অন্যান্য কর্মীদের বিষয়ে এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি। তারা অর্ধেক এমনকি পুরো সম্মানী পেতে পারেন। কেবল রাজশাহী নয়, দেশজুড়ে এই সীদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

আপনার মন্তব্য