মৃতদেহ ধর্ষণের রহস্য বেরিয়ে এলো যেভাবে

9
মৃতদেহ ধর্ষণের রহস্য বেরিয়ে এলো যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক: হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া নারীদের মৃতদেহের সঙ্গে ‘যৌন লালসা চরিতার্থ’ করার অভিযোগে মর্গের এক ডোমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি। বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে আনার পর কীভাবে তাদের ধর্ষণ করা হতো তা নিয়ে শুক্রবার সিআইডির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

সিআইডি জানায়, ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দেড় বছর ধরে মর্গে আসা নারীদের মৃতদেহের সঙ্গে যৌন মিলন করে আসছিল অভিযুক্ত যুবক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছে।

বাংলাদেশে ধর্ষণ, হত্যাসহ যেসব ঘটনায় মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রোফাইল তৈরি করে থাকে সিআইডি।

২০১৯  সালের মার্চ থেকে ২০২০’র আগস্ট পর্যন্ত একটি মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে পাওয়া মৃত নারীদের দেহে পুরুষ শুক্রানুর উপস্থিতি পায় সিআইডি। কিন্তু একাধিক নারীর মৃতদেহে একজন পুরুষের শুক্রানুর উপস্থিতি তাদের চমকে দেয়। তারা সেই পুরুষকে চিহ্নিত করার জন্য মাঠে নামে।

বিবৃতিতে সিআইডি বলেছে, মৃতদেহে পাওয়া শুক্রানুর ওপর ভিত্তি করে সেই পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনা থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যায় ।

প্রাথমিকভাবে সিআইডির ধারণা ছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে অথবা হত্যার পর ধর্ষণ করেছে। তবে পরে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের পর সিআইডি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে কোনো একজন ব্যক্তি মৃতদেহের ওপর ‘বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ’ করছে।

পরে সিআইডির গোপন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, প্রত্যেক ভুক্তভোগীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত একটি নির্দিষ্ট হাসপাতালের মর্গে করা হয়েছে। হাসপাতালটির মর্গের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে সিআইডি জানতে পারে , ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করার উদ্দেশে পরের দিন মর্গে রেখে দেওয়া হতো।
মর্গের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, মর্গের ডোমদের কেউ অপরাধ সংঘটন করে থাকতে পারে।

সন্দেহের ভিত্তিতে ওই নির্দিষ্ট হাসপাতালের ডোমদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা। ওই তদন্তের সময় জানা যায়, হাসপতালটির একজন ডোম পাঁচটি ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর মৃতদেহ পাহারা দেয়ার জন্য রাতে মর্গে ছিল।

এরপর বিস্তারিত তদন্তের পর তথ্য-প্রমাণের সাপেক্ষে সিআইডি নিশ্চিত হয়, অভিযুক্ত ডোম এই অপরাধের সাথে জড়িত। অভিযুক্ত যুবক তদন্তের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গা ঢাকা দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করে।

আপনার মন্তব্য