রক্তাক্ত জনপদে শান্তি আনেন ইসরাফিল

22
রক্তাক্ত জনপদে শান্তি আনেন ইসরাফিল

নওগাঁ: নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসন। এক সময় এই দুই উপজেলা জঙ্গী এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল এই দুই উপজেলা।

উত্তরের চার জেলা নওগাঁ, নাটোর, পাবনা ও রাজশাহী জেলার সেন্টার পয়েন্ট আত্রাই উপজেলা। আর এ কারণে এ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংগঠিত হতো। প্রকাশ্যে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা রাখা হতো।

কুপিয়ে খন্ড খন্ড করে মরদেহ মাঠেঘাটে ছড়িয়ে রাখার মতো বিভীষিকাময় ও লোমহর্ষক ঘটনাও ঘটতো। এতে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতো এ দুই উপজেলার মানুষ।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উত্থান ঘটে। জেএমবি দখল করে নওগাঁর আত্রাই, রাণীনগর এবং নাটোর ও রাজশাহীর একাংশ।

১৯৯১ ও ৯৬ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান। ২০০১ ও ২০০৬ সালে পুনরায় আলমগীর কবীর বিজয়ী হন।

সে সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসরাফিল আলম। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে আলমগীর কবির এলডিপিতে যোগ দেন। একই বছরে এলডিপি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে তৎকালীন ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরের ছোট ভাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু।

এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ইসরাফিল আলম। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। মূলত এ আসনটি চারবার বিএনপির অধীনে ছিল। ২০০৮ সালের পর থেকে অদ্যবধি এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

ইসরাফিল আলম বিজয়ী হওয়ার পর এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে খ্যাত এ দুই উপজেলায় শান্তির সুবাতাস বইতে থাকে। সর্বস্তরের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করে ইসরাফিল আলম এ দুই উপজেলাকে শান্তির জনপদে রূপান্তর করেছেন বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা।

রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ২০০৮ সালে নৌকার বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রকৃতভাবে রাণীনগর-আত্রাই স্বাধীন হয়। ইসরাফিল আলম নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন।

তিনি মানুষের সঙ্গে মিশেছেন এবং ভালোবেসেছেন। এ কারণে সর্বস্তরের মানুষ তাকে ভালোবাসে। আমি ১৯৯৮ সাল থেকে তার পাশে ছিলাম। তিনি একজন অমায়িক মানুষ ছিলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সোয়া ৬টার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৬৬ সালে রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

আপনার মন্তব্য