রাজশাহীর আমের বিদেশ যাত্রা আটকে দিলো করোনা

29

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাণঘাতি করোনার কারণে প্রস্তুতি সত্ত্বেও আটকে গেছে রাজশাহীর আমের বিদেশ যাত্রা। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গত দশদিনে অন্তত ১০ টন আম গেছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে।

সর্বশেষ গত রোববার তিন টন ফজলি ও আম্রপালি আম গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। এর মধ্যে এক হাজার ৩০০ কেজি আম্রপালি আম সুইজারল্যান্ডে পাঠিয়েছে রাজশাহীর চারঘাটের নর্থ বেঙ্গল এগ্রো ফার্ম লিমিটেড। নিজ জেলা থেকে কোন আম পাঠায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ম্যাঙ্গ প্রডিউসার কো অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, তিনি নর্থ বেঙ্গল এগ্রো ফার্ম লিমিটেডকে আম সরবরাহ করেছেন। আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম সংগ্রহ করে রপ্তানী করছে। গত ১০ দিন ধরে আম রপ্তানী শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে প্রায় দশ টন আম গেছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। কিছু লক্ষণভোগ, আম্রপালি এবং ফজলি আম পাঠানো হয়েছে। আরো মাসখানেক চলবে আম রপ্তানী। রপ্তানী শুরুর আগেই আম শেষ হয়ে যাওয়ায় রাজশাহী থেকে রপ্তানীর সুযোগ হয়নি এবার।

শামীম আরো বলেন, আম রপ্তানীতে এখনো নানান সংকট রয়েই গেছে। সরকারী উদ্যোগে চাঁপাইনবাবঞ্জে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ ও প্রক্রিয়াজাতকরন কেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে। আগামী বছর এই সংকট থাকবেনা-আশা করা যায়।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্ববাজারে রাজশাহীর আম রপ্তানী করে আসছেন রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহবায়ক আনোয়ারুল হক। তবে এবার আম পাঠাতে পারেননি তিনি। এর প্রধান কারণ করোনা বলে জানান এই আম রপ্তানীকারক।

তিনি বলেন, দেশে এখন নিরাপদ রপ্তানীযোগ্য প্রচুর আম উৎপাদন হচ্ছে। করোনা প্রেক্ষিতে ফলের চাহিদা বাড়ায় তৈরী হয় নতুন বাজার। তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। রপ্তানীযোগ্য সব আম বিক্রি করেছেন স্থানীয় বাজারেই। এতে কোন ধরণের লোকসানে পড়তে হয়নি চাষিদের। করোনার কারণে আমের বিশ্ববাজার হারানোর শঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।

আম রপ্তানির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল হক বলেন, তিনি রোববার নর্থ বেঙ্গল এগ্রো ফার্ম লিমিটেডের আম রপ্তানীর খবর পেয়েছেন। এর বাইরে এবছর রাজশাহী থেকে আম রপ্তানীর খবর নেই।

তবে রপ্তানীর উদ্দেশ্যে এবছর প্রায় ৭ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছিলো। জেলার বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া উপজেলার চাষিরা সবচেয়ে বেশি উন্নত এই প্রযুক্তিতে আম চাষ করেছিলেন। অধিকাংশ আমই বিক্রি হয়েছে স্থানীয় বাজারে।

এই অঞ্চলের বাগানে এখন ঝুলছে আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম। রাজশাহীতে গত ১০ জুলাই থেকে এই দুই জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে। পুরোদমে উঠছে আম্রপালি। শেষের পথে ফজলি আম। গত ১৫ মে থেকে শুরু হয় আম নামানো।

এরপর একে একে গোপালভোগ, রানীপছন্দ, লক্ষণভোগ বা লখনা, হিমসাগর বা খিরসাপাত এবং ল্যাংড়া বাজারে ওঠে। রাজশাহীর চেয়ে অন্তত: দশ দিন পর বাজারে ওঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর আম। এই দুই জেলায় আম থাকবে আরো মাসখানেক।

আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের হিসেবে, রাজশাহী অঞ্চলে এবছর আম বাগান রয়েছে সবমিলিয়ে ৮০ হাজার ৩৬০ হেক্টর। এ থেকে উৎপাদন হতে পারে ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭০ টন আম। গত বছর ৭২ হাজার ৯০৯ হেক্টর আম বাগান থেকে আম উৎপাদন ছিলো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৮ টন।

কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যথেষ্ট প্রস্তুতি সত্ত্বেও রাজশাহী থেকে আম রপ্তানি হচ্ছে সামান্যই। গত বছর রাজশাহী জেলা থেকে ৩৬ দশমিক ৪৪৭ টন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ৬৪ দশমিক ৪৫ টন আম রাপ্তানি হয়। এবার তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে করোনার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যাবার শঙ্কা তৈরী হয়েছে।

আপনার মন্তব্য