রাবি’র দেয়াল চিত্রে ফুটে উঠেছে মুক্তিসংগ্রাম

4
রাবি’র দেয়াল চিত্রে ফুটে উঠেছে মুক্তিসংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি: শুরুর দিকে ৪৭-এর দেশভাগ। দেশভাগের পরপরই বাংলা ভাষাভাষী কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষার ওপর নেমে আসে আঘাত। সেখান থেকে শুরু হয় বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রাম। ভাষার স্বাধীনতা আনতে গিয়ে রক্ত ঝরাতে হয় বাঙালির। তার পাশেই শহীদ মিনার। যাদের আত্মত্যাগে মায়ের ভাষা সেখানেই সবার শ্রদ্ধা নিবেদন।

বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ মিনার এলাকার একটি দেয়াল চিত্রের কথা। দেশভাগ থেকে স্বাধীনতা, যার সবটুকুই ফুটে উঠেছে ক্যানভাসে। একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই রঙিন ক্যানভাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীদের তুলির আঁচড়ে লাল, নীল, হলুদ, সবুজসহ হরেক রকমের রঙের খেলায় দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা ওই চিত্রে চোখ রাখলেই মনে পড়ে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের এক দৃশ্যপট।

শহীদ দিবসের প্রথম প্রহর থেকেই শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন। শ্রদ্ধা নিবেদনে আসা প্রত্যেকটি ব্যক্তিরই চোখ আটকে যায় পশ্চিম দেয়ালে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় মুক্তি না পাওয়ার কারণে মুক্তি-সংগ্রাম। মাথা উল্টে লাশ পড়ে থাকার দৃশ্য বোঝাচ্ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা। দীর্ঘ সংগ্রামের পর রাষ্ট্রীয় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি পায় স্বাধীন ভূখণ্ডের পতাকা।

দর্শনার্থীরা সেখানে এসে ছবি তুলছেন। ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিসংগ্রাম না দেখলেও এক নজর চোখ রাখছেন এই দেয়ালে।

বাঙালির প্রথম দিকের দুঃখগাঁথার কথাও শিল্পির আঁচড়ে বাদ পড়েনি বলে জানান লাইব্রেরী ও ইনফরমেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে এলাহী। তিনি বলেন, গ্রামের দুই গৃহবধূর কাঁধে কলসিতে করে পানি নিয়ে যাওয়া, গ্রামবাংলার জীবনধারার সাধারণ চিত্র। বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের ইতিহাস এখানে ফুটে উঠেছে।

দর্শনার্থী শিক্ষার্থী নেহাল নূর বলছিলেন, দেয়ালের শেষপ্রান্তে এসে রঙিন ক্যানভাসে ফুটে ওঠে বাঙালি জাতির বর্ণের ওপর যে আঘাত এসেছিল সেই বর্ণকেই, সেই বর্ণমালার বইকেই বুকে ধারণ করে স্কুলে যাওয়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এই দেয়ালচিত্রেই বোঝা যায়, বাঙালি জাতিকে কোনো কিছু দিয়ে দমিয়ে রাখা যায় না। মূলত এই দেয়াল চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংগ্রামের পুরো ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে।

দেয়াল চিত্রটি অঙ্কনের সমন্বয়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক। তিনি বলেন, এটাই শিল্পীর চোখে বাংলার ইতিহাস। রঙের টানে যেমন মৌমাছিরা ফুলের কাছে ছুটে যায়। তারপর সেখান থেকে মধু আহরণ করে। রঙের বৈচিত্র্যের মাধ্যমেই সবকিছু তুলে ধরা হয়েছে। এই দেয়াল চিত্রের সামনে যে যাবে সে হারিয়ে যাবে বাংলার সংগ্রামের ইতিহাসের মধ্যে। প্রত্যেকের পোশাকের সঙ্গে দেয়ালের ক্যানভাসের রঙের মিল আছে। রঙ ও তুলির আঁচড় দিয়ে সবাইকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব।

আপনার মন্তব্য