লকডাউনে রাজশাহীজুড়ে আরো কঠোর হবে পুলিশ

313
নাশকতা-ষড়যন্ত্র ঠেকাতে গোয়েন্দারা মাঠে

স্টাফ রিপোর্টার: এবার পুরোপুরি লকডাউনে যাচ্ছে বিভাগে করোনার হটস্পট বগুড়াসহ রাজশাহী, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও নাটোর জেলা। তবে করোনার ভয়াবহতা কিছুটা কম থাকায় অংশিক লকডাউন থাকবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা।

তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক করোনার বিস্তার ঠেকাতে এবার আগের চেয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে এসব জেলার পুলিশ। এমনটি জানিয়েছে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ।

সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে করোনাযুদ্ধে সবখানেই সবার আগে ছুটে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাই। ফলে করোনা পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষার বিয়ষটি সমান গুরুত্ব দিচ্ছে এখানকার পুলিশ।

জানা গেছে, নতুন করে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পুরোপুরি লকডাউনে থাকা জেলাগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ও জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে করোনার বিশেষ গাইডলাইন অনুযায়ী কঠোর হবে পুলিশ।

করোনা পরিস্থিতিতে কিভাবে চলবে পুলিশিং কার্যক্রম সেই নির্দেশনা এরই মধ্যে পৌঁছেছে জেলায় জেলায়। এই নির্দেশনা মেনে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলো।

এমন নির্দেশনা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম।

তিনি বলেন, প্রকৃত লকডাউনে যা যা করতে হয় রাজশাহী পুলিশ তাই করবে। সার্বক্ষণিক টহল, চেকপোস্ট, অকারণে ঘোরাঘুরি করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। এর বাইরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতে সহায়তা। রুটিন কাজও করবে সমান গুরুত্ব দিয়ে।

এদিকে, করোনা মোকাবেলায় নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করবে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। বিষয়টি নিশ্চিত করে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, জনজীবনের নিরাপত্তা এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নগর পুলিশ। সবচেয়ে কম ফোর্স ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের বিষয়টিও রয়েছে তাদের পরিকল্পনায়।

তিনি যোগ করেন, নিজেদের সুরক্ষায় নগর পুলিশের ব্যারাকগুলো ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিদিন তিনটি করে ব্যারাক থেকে মাঠে নামছেন পুলিশ সদস্যরা। ব্যারাকের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে সেটি পুরোপুরি লকডাউনের সুযোগ থাকছে।

তিনি আরো বলেন, যারা সরাসরি জনগণের কাছাকাছি যাচ্ছেন, তাদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সামগ্রি নিশ্চিত করা হয়েছে। লকডাউনে নগরীতে যাওয়া-আসা নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তিনটি চেক পোস্ট কাজ করছে।

অপর এক সঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ট্যাবলেট ও তুলনামুলক ভালো খাবার পরিবেশ হচ্ছে। সিনিয়র কর্মকর্তারা প্রত্যেক ইউনিটে গিয়ে গিয়ে সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। সচেতনও করছেন।

নগরীতে এখনো কোন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হননি জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এনিয়ে পুলিশ হাসপাতালকে ৩৩ শয্যার করোনা হাসপাতানে উন্নীত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস্ এন্ড ক্রাইম) মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, স্বাভাবিক পুলিশিংয়ের পাশাপাশি সরকার যখন যে এলাকায় যে সিদ্ধান্ত দেবে পুলিশ সেটি কার্যকর করার ব্যবস্থা নেবে।

স্বাস্থ্যবিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে পুলিশ। নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বপালন করবেন পুলিশ সদস্যরা।

তিনি জানান, করোনা লড়াই নেমে এ পর্যন্ত রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ১৩৮ জন সদস্য সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন করোনা জয় করেছেন। তবে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক জন।

এদিকে, লকডাউন বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. হামিদুল হক জানিয়েছেন, তিনি সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে রোববার বিকেলল পর্যন্ত তিনি কোনো নির্দেশনা পাননি। মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের নির্দেশনা দেয়া হবে সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছেন।

ডিসি বলেন, লকডাউন কেমন হবে, শুধু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নাকি দোকানপাটও বন্ধ এসব বিষয়ে নির্দেশনা আসতে হবে। লকডাউন করার অর্থ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। এখন লকডাউন অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা পুলিশের ভূমিকা কী হবে, এ বিষয়েও কোনো নির্দেশনা পাননি।

এর আগে রোববার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, একদিনে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ২৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ যাবত করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড এটি। একদিনে মারা গেছে আরো দুই করোনা রোগি।

গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৬২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বগুড়ায়। এছাড়া পাবনায় ৫৭ জন, নওগাঁয় ১৩ জন, জয়পুরহাটে ৯ জন, সিরাজগঞ্জে ৮ জন, নাটোরে দুজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে একজনের করে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বিভাগে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত হয়েছে বগুড়ায় ৭৩১ জন। এছাড়া জয়পুরহাটে ২১৪জন, নওগাঁয় ১৫৯ জন, পাবনায় ১২৯ জন, সিরাজগঞ্জে ১০৮ জন, রাজশাহীতে ৭৬ জন, নাটোরে ৬৬ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৭ জন।

করোনায় বিভাগে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ১৬ জন। এর মধ্যে বগুড়ায় ৬ জন, রাজশাহীতে ৩ জন, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় দুজন করে এবং নাটোরে একজন। এখনো জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগেঞ্জে করোনায় কেউ প্রাণ হারাননি।

আপনার মন্তব্য