সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলে ধিক্কার

5
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলে ধিক্কার

স্টাফ রিপোর্টার: সংবাদ প্রকাশের জেরে রাজশাহীতে সাংবাদিকদের নামে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এতে ধিক্কার জানিয়েছেন রাজশাহীর সাংবাদিকসহ পেশাজীবীরা।

সোমবার সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) আয়োজিত ওই কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি উঠেছে।

ওই মামলায় দৈনিক যুগান্তরের রাবি প্রতিনিধি মানিক রাইয়ান বাপ্পিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নিশর্ত মুক্তিও দাবি করেছে মানববন্ধন থেকে।

আরইউজে সভাপতি কাজী শাহেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

তিনি বলেন, প্রগতিশীল এসব মানুষদের বিরুদ্ধে মামলা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত। উন্নয়নের চলমান ধারা বাধাগ্রস্ত করতে সাংবাদিকদের বেকায়দায় ফেলে সরকারকে সমালোচিত করার চেষ্টা চলছে। মামলাটির সঠিক তদন্ত হলে সাংবাদিকরা অব্যাহতি পাবেন।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনকে ‘কালা কানুন’ উল্লেখ করে সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে কালা কানুন কেন? এই দেশে কাল আইনের দরকার নেই।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জাতি গঠনে কাজ করে যান। কালা কানুনে যদি তাদেরই হয়রানির শিকার হতে হয় তাহলে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই তিনি যেন আইনটি বাতিল করেন। কারণ, তিনি ছাড়া আর কোন অভিভাবক নেই।

সমাবেশে আরউজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার উপযুক্ত স্থান বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। কিন্তু কাজী জাহিদ মামলা করেছেন থানায়। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি মামুন-অর-রশিদ বলেন, রাবির যে শিক্ষক আইসিটি আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সেই শিক্ষকই আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে অপপ্রচারের জন্য এই আইনে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন।

তিনি নিজেই আইন মানেন না। আর তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন তাতে পুলিশ প্রভাবিত হয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ধিক্কার জানাই।

আরইউজে সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বাবু, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আরাফাত রহমান, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বাবর মাহমুদ প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, সোনালী সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ জামাল কাদেরী, বিএফইউজে সদস্য জাবীদ অপু, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শ্যামল, আরইউজের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান রকি, কোষাধ্যক্ষ সরকার দুলাল মাহবুব, নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান টুকু, সামাদ খান, সিনিয়র সাংবাদিক শ.ম সাজু, আনিসুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র ফটোসাংবাদিক আজাহার উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন-রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহিদী, রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু, নগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তৌফিক আলী ভাদু, রাজশাহী সংবাদপত্র কর্মী পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন নিলা, ওয়েবের রাজশাহীর সভাপতি আনজুমান আরা লিপি, রাজশাহী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবদুল মালেক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের রাজশাহীর সহ-সভাপতি সেলিনা বেগম প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য