সামনে আরও বড় মহামারি

11
সামনে আরও বড় মহামারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)  বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারি মারাত্মক হলেও এটি ‘তেমন কিছু না’ এবং সামনে আরও বড় মহামারি আসতে পারে। বিশ্ববাসীকে কোভিড-১৯ নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

ডব্লিউএইচও এর সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত পরামর্শদাতা দলের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডেভিড হেইমান বলেছেন, আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হলেও, ভাইরাসটি হয়তো স্থানীয় পর্যায়ে থেকে যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০০ সালের শেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

তিনি বলেন, ‘হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে বিশ্ববাসী আশাবাদী। যথেষ্ট সংখ্যক লোকেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে, সংক্রমণ কমে আসবে।’

তবে লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের এই মহামারি বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা আছে।

‘আরও চারটি করোনাভাইরাসের মতো কোভিড-১৯ এর স্থানীয় প্রাদুর্ভাব হবে। সৌভাগ্যক্রমে, আমাদের কাছে জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আছে।’ বলেন তিনি।

এ দিকে ডব্লিউএইচওর ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের প্রধান মার্ক রায়ান বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে চালানো হলে, এ ভাইরাসের হুমকি অনেক কমে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এটি এখন দেখার বিষয় যে ভ্যাকসিন কীভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। ভাইরাস নির্মূল করতে আমরা কতদূর পর্যন্ত ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালাতে পারি।’

‘ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা খুব ভালো থাকলেও, সংক্রামক রোগ নির্মূলের নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এ কারণেই ভ্যাকসিনের প্রথম লক্ষ্য ছিল জীবন বাঁচানো এবং শারীরিকভাবে দুর্বলদের রক্ষা করা। তারপর আমরা ভাইরাস নির্মূলে কাজ করবো।’

তবে, পরবর্তী মহামারি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে রায়ান সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘এ মহামারিটি অত্যন্ত মারাত্মক ছিল। পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় পৌঁছেছে এই ভাইরাস। তবে, এটি অবশ্যই অত বড় কিছু নয়।’

‘এটি ছিল সতর্কবার্তা। আমরা এখন শিখছি কীভাবে আরও ভালভাবে এসব মোকাবিলা করা যায়। বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কীভাবে আরও ভালভাবে সবখানে পৌঁছানো যায়,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রমবর্ধমান জটিল বিশ্ব সমাজে বাস করি। এই হুমকি অব্যাহত থাকবে। ট্র্যাজেডি ও ক্ষতি থেকে আমাদের শিক্ষা হচ্ছে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা।’

ডব্লিউএইচওর প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন ব্রিফিংয়ে বলেন, ভাইরাসের টিকা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে সামাজিক দূরত্বের মতো জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলা লাগবে না।

এ সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেরবাইয়িস বলেন, ‘বছরের শেষে এসে মহামারির ক্ষতি ফিরে দেখার প্রয়োজন, সেই সঙ্গে আমাদের সাফল্যও। সামনের বছর নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি করোনার নতুন স্ট্রেইনের কথা উল্লেখ করেন।

আপনার মন্তব্য