সিনহার মাকে ফোন; সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

11
সিনহার মাকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন; সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস

জাতীয় ডেস্ক: টেকনাফে নিহত সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের মা নাসিমা আক্তারকে ফোন করে সমবেদনা ও সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সিনহা রাশেদের মাকে ফোন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিহতের পরিবারকে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। অপর দিকে নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিনহার পরিবার।

নিহত সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের মা নাসিমা আক্তার জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। ছেলের এমন মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

গত ৩১ জুলাই রাত ৯টায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। গুলিতে সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ নিহতের সাড়ে চারঘণ্টা পর টেকনাফ থানায় মামলা করে পুলিশ। এতে অভিযোগ করা হয়, সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশকে হত্যার জন্য অস্ত্র তাক করার।

এজাহারে বলা হয়, ঈদের আগের দিন ৩১ জুলাই রাত আটটা ৩৫ মিনিটে, মারিশবুনিয়া কমিউনিটি পুলিশের সদস্য নিজাম উদ্দিন স্থানীয় বাহারছড়া পুলিশ ফাড়ির পরিদর্শক লিয়াকতকে জানান, সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ডাকাতির জন্য টর্চ মেরে ঘোরাঘুরি করছে কিছু লোক।

রাত ৯টা ১৫ মিনিটে, লিয়াকত একজন এসআই ও তিন কনস্টেবল নিয়ে শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে অবস্থান নেন। ২০ মিনিট পর সেখানে আসে মেজর সিনহার প্রাইভেটকার।

পুলিশের ভাষ্য, সিগনাল দিলেও তা অমান্য করার চেষ্টা করেন সিনহা রাশেদ। পরে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি আটকানো হয়। এরপর তাদের নামতে বললে, নিজেকে সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে হট্টগোল করতে থাকেন সিনহা রাশেদ।

একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে, কোমরের ডান পাশে থাকা অস্ত্রটি পুলিশের টিমের দিকে তাক করলেই চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ।

এরপর গাড়ির ভেতরে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে গাড়ি থেকে বের করে আটক করা হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ১১টা ৫৫মিনিটে সিনহা রাশেদকে মৃত ঘোষণা করেন ডাক্তার। গাড়ি থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে আরেকটি মাদক মামলাও করে পুলিশ।

অন্যদিকে, পরিবারের দাবি সিনহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার চরিত্রে কালিমা লেপনের জন্য মাদকের বিষয়টি আনা হয়েছে। এই ঘটনায় সংস্থার প্রতিবেদনে সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাত নামে এক যুবকের ভাষ্য দিয়ে বলা হয়েছে, ‘কোনোরূপ জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই মেজর (অব.) সিনহার বুকে একে একে তিনটি গুলি ছোড়েন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী।’

সিনহা রাশেদের মা জানান, ঘটনার দিন রাতেই তাকে ফোন দেন টেকনাফ থানার ওসি। গোপন করা হয় নিহতের ঘটনা।

আপনার মন্তব্য