স্বামীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কীভাবে কমাবেন 

25

নারী ডেস্ক: দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা থাকা খুব স্বাভাবিক। এতে সম্পর্ক মজবুত হয়, ভালোবাসা হয় আরও গাঢ়। প্রেমের মাধুর্য স্থায়ী হয় সারাজীবন। তবে সমস্যা হল, অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও সবসময় ইতিবাচক হয় না। 

স্বামী বা সঙ্গীর উপর মানসিকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার মধ্যে ক্ষতিকর কিছু নেই, কিন্তু আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে তা ক্ষতিকর হয়ে উঠতেও বেশি সময় লাগে না। এ নিয়ে লাইফস্টাইল সাইট ফেমিনার একটি প্রতিবেদনে চোখ রাখা যাক।

কীভাবে বুঝবেন আপনি স্বামী বা সঙ্গের ওপর মানসিকভাবে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। স্বামী খুশি হন এমন কাজ করতে সারাক্ষণ তৎপর থাকেন কি আপনি? তার জন্য নিজের আনন্দের সঙ্গে আপোষ করতে হলেও পিছপা হন না?

তেমন হলে একটু সচেতন হোন। স্বামীর ভালো লাগাটা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু নিজের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে নয়। নিজের ভালো লাগাটাকেও গুরুত্ব দিন, না হলে মনের উপর অহেতুক চাপ পড়বে।

সিনেমা দেখতে যাওয়াই হোক বা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক- স্বামীর সঙ্গে না গেলে আপনি কি কোথাও যান না? এমন হলে সতর্ক হোন।

আপনার নিজের স্বাধীন অস্তিত্বটা নিজের হাতে মুছে ফেলবেন না। মাঝেমধ্যে নিজে আলাদা বেরোন, স্বাধীনভাবে সময় কাটান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন।

দুইজনের মধ্যে কিছু না কিছু পছন্দ-অপছন্দে মিল থাকবে। কিন্তু অন্ধের মতো স্বামীর পছন্দকেই যদি নিজের পছন্দে বদলে নিতে থাকেন, তা হলে আপনার নিজস্বতা বলে কিছু থাকবে না তখন।

নিজের ভালো লাগার কাজগুলোর উপরে জোর দিন, না হলে পরে অভাববোধে ভুগবেন, শূন্যতাও ঘিরে ধরতে পারে।

ওয়েস্টার্ন পোশাক বা একেবারি বাঙালি পোষাক হোক-স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না হলেও কি শুধু স্বামী পছন্দের কারণে পোশাক পরেন? তা হলে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। শুধু পোশাক নয়, চুলের স্টাইল, সাজগোজের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

নিজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমনভাবেই সাজগোজ করুন, পোশাক পরুন। নিজেকে নিজের মতো করে সাজান, নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিতে শিখুন।

আপনার স্বামী যদি অন্য কারও সম্পর্কে কথা বলেন, অন্য কারও সঙ্গে সময় কাটালে (সেই মানুষটি পুরুষ-নারী যাই হোন), আপনার খুব রাগ হতে থাকে? কেন ওই ব্যক্তির সঙ্গে স্বামীর কথা বলা উচিত নয়, তা নিয়ে উদ্ভট সব যুক্তি সাজাতে থাকেন?

সবসময় চান স্বামী তার পূর্ণ মনোযোগ শুধু আপনাকে দিন? তা হলে কিন্তু আপনার নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় এসেছে! এতে দাম্পত্য জীবনের ক্ষতি করছেন আপনি।

স্বামীকে তার মতো করে ছেড়ে দিন, তার পছন্দকে তাকে উপভোগ করতে দিন, একইভাবে নিজের জীবনটাও উপভোগ করুন।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে নারীরা অনেকসময় স্বামীর মন জুগিয়ে চলতে বাধ্য হন এবং নিজের মানসিক অবস্থানটাও তারা সেভাবেই করে নেন। বলা যায়, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার ওপর নির্ভর করে মানসিক নির্ভরশীলতাও।

এরকম হলে, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কীভাবে আপনি এই আর্থিক নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন, তা নিয়ে ভাবতে হবে। 

শুরুতেই চাকরি পাওয়া মুশকিল, তাই পার্ট টাইম বা ফ্রিল্যান্স কোনও কাজ শুরু করতে পারেন। স্বাধীন ব্যবসাও করা যায়। প্রথমেই বড় কিছু না ভেবে একদম ছোট কিছু দিয়ে শুরু করুন।

আপনি যে কাজটা সবচেয়ে ভালো পারেন, সেটাই আপনার ব্যবসার ভিত হতে পারে। হাতের কাজ, রান্না করা, আঁকা, যে বিষয়ে আপনি পারদর্শী- সেটা নিয়েই কাজ শুরু করুন।

প্রথম প্রথম হাতে টাকাপয়সা থাকবে না, কিন্তু যদি মনের জোর থাকে আর লেগে থাকতে পারেন, তা হলে আর্থিক নির্ভরশীলতার জায়গাটাও ধীরে ধীরে কেটে যাবে।

বিষয়টি স্বামীর সঙ্গেও শেয়ার করতে পারেন। সঙ্গী হিসেবে তার সহায়তাও নিতে পারেন।

আপনার মন্তব্য