হাঁস পালনে তরুণদের ‘আইডল’ ইমরুল

29

নিয়ামতপুর: নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার কুঞ্জ বন গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে ইমরুল হাসান । তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

ইমরুল হাসান ভাবেন, করোনার এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে বসে না থেকে কিছু করা যায় কি না। এক পর্যায়ে চিন্তা ভাবনা করে হাঁস পালনের উদ্যোগ নেন। হিসাব-নিকাশ করে দেখলেন, হাঁস পালন করে লাভ করা যাবে।

তিনি হাঁসের খামার স্থাপন সম্বন্ধে ভাবলেন, করোনাভাইরাস এর সময় জনসমাগমে না করে দূরে ফাঁকা জায়গায় স্থাপন করা উচিত। এই ভাবনায় নানার বাড়ির পাশেই নিয়ামতপুর উপজেলা সাতড়ার ঐতিহ্যবাহী বিলে  হাঁসের খামার স্থাপন করলেন।

বর্তমানে এই তারুণ্য উন্মুক্ত খামারে দুই পর্যায়ে হাঁস রয়েছে। একধাপে খাকি ক্যাম্বেল রয়েছে ।কিছু দিন পর ডিম দিবে এমন হাঁস ৭০০ টি।আর দ্বিতীয় ধাপে হাঁসের বাচ্চা 1000 টি।

বিলে হাঁস চরানো হচ্ছে বলে হাঁসগুলোর খাওয়ার তেমন বেশি খরচ নেই। কেবল বাচ্চা কেনা ওষুধ পত্র ও লোকবলের খরচ লাগছে ।কাজেই খামারের লাভ হবে বলে আশা হচ্ছে।

স্থানীয় যুবক আরিফ বললেন, এই এলাকায় হাঁসের খামার করায় পুরো এলাকায় সাড়া ফেলেছে। তাকে অনুসরণ করে হাঁস পালন আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অনেকেই। হাঁস পালন করে ইমরুল হাসান এমন একজন তারুণ্যের দৃষ্টান্ত প্রতীক হয়েছে।

কী উদ্দেশ্যে করছেন হাঁসের খামার এই প্রশ্নের উত্তরে ইমরুল হাসান বলেন, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতির উপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ।এই প্রভাব ন্যূনতম করার লক্ষ্যে তথা দেশের অর্থনীতির চাকা সচ

ল রাখার জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমার অবসর সময়কে কাজে লাগাতে পারছি, সাথে কয়েকজন বেকার মানুষের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি। আর শিক্ষিত মানুষ যদি কৃষির দিকে মনোনিবেশ করে তাহলে আমি মনে করি আমাদের দেশের অর্থনীতির আরো দ্রুত উন্নতি সাধিত হবে।

 তিনি আরো বলেন, যারা বেকার আছে বা করোনা কালীন সময়ে বাসায় বসে সময় অতিবাহিত করছেন, বিশেষ করে ছাত্র সমাজ তারা পড়াশোনার পাশাপাশি বড় পরিসরে না হলেও ক্ষুদ্র পরিসরে নিজ  বাসায় ছাদে অথবা গ্রামের বাড়িতে এমন উদ্যোগ নিলে পরিবার তথা সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার রায় বলেন, বর্তমান সরকার বেকারত্ব দূর করার জন্য নানামুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুবকদের উৎসাহিত করছে ।সে ক্ষেত্রে  ইমরুল হাসানের হাঁসের খামার একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ।কেবল সরকারি চাকরির আশা না করে এভাবে আত্মপ্রত্যয়ী অনেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য