হামলাকারী রামেক চিকিৎসকদের শাস্তি দিতে আল্টিমেটাম

73

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলেকে লাঞ্ছনাকারী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের অবিলম্বে বিচারে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে রাজশাহীবাসী। রোববার দুপুরে মানববন্ধন করে এই আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

বেলা ১১টার দিকে নগরীর লক্ষীপুর মোড়ের এই মানববন্ধন আয়োজন করে রাজশাহীর সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। মানববন্ধনে রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশ থেকে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের দৌরাত্ম বন্ধ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করারও আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

আগামী সাতদিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে রামেক হাসপাতাল ঘেরাসহ কঠোর আন্দোলনে যাবার হুশিয়ারি দেন রাজশাহীবাসী।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, সাংগাঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, সমাজ উন্নয়ন কর্মী সুব্রত পাল, মুক্তিযোদ্ধা বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি হাকিম আতাউর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহসভাপতি মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক, মহিলা পরিষদ রাজশাহীর নেত্রী আকলিমা খাতুন লিমা প্রমুখ।

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তার বলেন, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর মৃত্যু এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ইন্টার্ন নামের কিছু গুন্ডা চিকিৎসক। এ হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তারা।

চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যু এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি ও রামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনে নামবে রাজশাহীবাসী।

বক্তারা বলেন, রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে যে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এটি নিরপেক্ষ না। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সকলেই চিকিৎসক। তাই অচিরেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে রাজশাহীবাসী। যেসব ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে বলেও হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
বক্তারা দাবি করেন, ভালো চিকিৎসক হবার আগে ভালো মানুষ হতে হবে। কিন্তু চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা দেন না। শুধু মুক্তিযোদ্ধারাই নন, দেশের সাধারণ মানুষও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, রামেক হাসপাতালে বর্তমানে দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। আর এ দুর্নীতি আড়াল করতেই হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেন না পরিচালক। অবিলম্বে রামেক হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান তারা।

বক্তারা বলেন, করোনাকালে যে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। চিকিৎসকরা যেভাবে টাকা লুটপাত করেছে, এসব চিকিৎসার নামে টাকা খরচের হিসাবও দাবি করেন তারা। তারা বলেন, সরকার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য নানা পদক্ষেপ নিলেও রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্ধ লুটপাট করা হয়েছে। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দৌরাত্ম ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চিকিৎসার নামে তারা রোগী ও স্বজনদের মারপিট করে পুলিশে সোপর্দ করার মত ঘটনাও ঘটাচ্ছে। প্রায় রামেক হাসপাতলে এমন কান্ড ঘটলেও কর্তপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রামেক হাসপাতালে এ অবস্থার পুণরাবৃক্তি ঘটলে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণাও দেওয়া হয় মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলীর স্ত্রী পারুল বেগম (৬৫) মারা যান। একরকম বিনা চিকিৎসায় মারা যান ওই নারী। এতে আক্ষেপ করে উচ্চবাচ্য করেন মৃতের ছেলে রাকিবুল ইসলাম।

এনিয়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসরা একজোট হয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী ও তার ছেলে শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামকে দফায় দফায় মারধর করেন। তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি রাকিবুলের স্ত্রী-স্বজন এমনকি সাথে থাকা সহকর্মীও।

মরদেহ আটকে রেখে প্রকাশ্যে বাবা-ছেলেকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন চিকিৎসকরা। শেষে রাকিবুলকে তুলে দেন পুলিশের হাতে। এনিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের এই অপকর্ম সামনে আসায় ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ন্যাক্কারজনক ্এই ঘটনার বিচার দাবিতে শনিবার থেকে আন্দোলনে নেমেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দুপুরের দিকে মানববন্ধন করে দোষিদের বিচার দাবি করেন। অন্যথায় সকল মুক্তিযোদ্ধা এক সাথে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতির হুমকি দেন। পরে এনিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী দুই শিক্ষানবিশ চিকিৎসকসহ তিন জানের নামে মামলা দায়ের করেন নগরীর রাজপাড়া থানায়।

আপনার মন্তব্য