হোম অফিসে বাচ্চা সামলাতে গিয়ে চাকরি যাচ্ছে নারীদের

11

নারী ডেস্ক: করোনা রোধে দেশে দেশ আরোপ করা লকডাউন। এতে দেশে দেশে সরকারি বেসরকারি কর্মীরা ঘরে বসেই কাজ সারছেন। অনেক জায়গায় সীমিত আকারে কর্মস্থল খুলে গেলেও এখনো কোটি কোটি মানুষ হোম অফিস করছেন।

তবে ঘরে বসে চাকরি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নারী কর্মীরা। একই সঙ্গে ঘর সামলাতেও হচ্ছে তাদের।

ঘরে স্বামী থাকলেও অধিকাংশ সময় সন্তানের দেখভাল করতে হচ্ছে মায়েদেরই। ফলে টান পড়ছে নিরবিচ্ছিন্ন ওয়ার্কিং আওয়ার বা শ্রমঘন্টায়৷ এতে চাকরি ছাড়তেও বাধ্য হচ্ছেন অনেক কর্মরতা মা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ইন্সটিটিউট অফ ফিসকাল স্টাডিজ (আইএফএস) এবং ইউসিএল ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশনের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

এতে দেখা যায়, কর্মজীবী বাবাদের তুলনায় কর্মজীবী মায়েরা অনেক কম সময় নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে অফিসের কাজ করতে পারছেন।

হোম অফিস করছেন এমন বাবারা গড়ে তিন ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্নভাবে অফিসের কাজ করতে পারলে কর্মজীবী মায়েদের ক্ষেত্রে এই সময়ের পরিমাণ মাত্র ১ ঘন্টা। 

কাজ হারানোর সংখ্যাতেও মায়েরা অনেক এগিয়ে রয়েছেন বাবাদের তুলনায়। এ ছাড়া গবেষকদের আশঙ্কা, লকডাউনের জেরে বেতন বৈষম্যের শিকারও হতে হবে কর্মরতা মহিলাদের৷

গত ২৯ এপ্রিল থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ৩৫০০ হাজার পরিবারের কর্মরত বাবা-মায়েদের নিয়ে এই সমীক্ষা করেন আইএফএসের গবেষকেরা। 

এতে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকেই চাকরি ছাড়তে শুরু করেছেন কর্মজীবী মায়েরা। অধিকাংশ পরিবারেই সন্তানের যাবতীয় দেখভাল করতে হচ্ছে মায়েদেরই৷

কর্মজীবী বাবাদের অধিকাংশই এই দায়িত্ব এড়াচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে মায়েদের উপর খড়গহস্ত হচ্ছে কোম্পানিগুলো। 

লকডাউনের মধ্যে মায়েদের চাকরি যাওয়ার পরিমাণ বাবাদের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি। চাকরি ছাড়ার পরিসংখ্যানেও অনেক এগিয়ে মায়েরা। এক্ষেত্রে পার্থক্য প্রায় ৪৭ শতাংশের।

আইএফএসের সিনিয়র রিসার্চ ইকোনমিস্ট অ্যালিসন অ্যান্ড্রুর ভাষ্য, লকডাউনের শুরু থেকেই কর্মজীবী মায়েদের কাজ ছাড়ার পরিমাণ বাবাদের চেয়ে অনেক বেশি।

যারা কাজ করছেন, তারাও পুরুষদের তুলনায় নিরবিচ্ছিন্ন কাজের সময় পাচ্ছেন অনেক কম। এর মূলে রয়েছে সাংসারিক কাজের দায়ভার, বিশেষত সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব।

আমাদের আশংকা, লকডাউনের ফলে হয়তো আগামী দিনে পুরুষ ও নারীকর্মীদের মধ্যে বিপুল বেতনবৈষম্য তৈরি হতে পারে।

আপনার মন্তব্য