৩০ হাজার টাকায় ধর্ষণের মিমাংসা, সালিশ না মানায় মারধর

31
৩০ হাজার টাকায় ধর্ষণের মিমাংসা, শালিস না মানায় মারধর

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ৩০ হাজার টাকায় মিমাংসার চেষ্টা চালিয়েছেন প্রভাবশালীরা।

কিন্তু এই সালিশ মানেননি ভুক্তভোগী ওই তরুণীর স্বজনরা। এনিয়ে ওই তরুণীসহ স্বজনদের মারধর করে সমাজচ্যুত করার হুমকি দেয়া হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর রাতে নগরীর কাটাখালি থানার জয়পুর এলাকার এইঘটনায় মামলা হয়েছে ১৪ অক্টোবর রাতে।

ঘটনার শিকার তরুণী ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই তরুণী।

ধর্ষক শাহিনুর রহমানও (২৭) একই এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ট্রলি চালক শাহিনুর রহমান মাদকসেবনসহ নানান অপকর্মে জড়িত।

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর পরিবার জানিয়েছে, ৯ অক্টোবর রাতে বাড়ির উঠানে টিউবওয়েল পানি আনতে যায় তরুণী। ওই সুযোগে তার শোবার ঘরে ঢুকে ঘাপটিমেরে ছিলেন প্রতিবেশী শাহিনুর।

ওই তরুণী ঘরে প্রবেশ করার সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে তার উপর পাষবিকতা চালান শাহিনুর। টের পেয়ে স্বজনরা তাকে পাকড়াও করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মোবাইল ফেলে পালিয়ে যান ধর্ষক।

জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে কাটাখালি থানা পুলিশ এলেও পরে ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে যায়।

এই ঘটনার ১৪ অক্টোবর সালিশ বসান পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আক্কাস আলী।

ওই তরুণীর পরিবার জানিয়েছে, ওই সালিশে সবার সামনে নিজের দোষ স্বীকার করেন অভিযুক্ত শাহিনুর। পরে তাকে ২০ জুতার ঘা ও ৩০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কিন্তু মোড়লদের এই রায় মানেননি ভুক্তভোগী পরিবার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ব্যাপক মারধর করেন ইউপি সদস্য আক্কাস আলী, তার ছেলে রুবেল, মোড়ল হযরত আলীসহ ধর্ষকের লোকজন।

এই ঘটনায় আইনী ব্যবস্থা নিলে সমাজচ্যুুত করার হুমকি দেয়া হয়েছে তাদের। পরে এই ঘটনায় তারা মামলা দায়ের করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য আক্কাস আলী। তিনি দাবি করেন, ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগ ছিলো, শ্লীলতাহানির চেষ্টা।

কাজেই মেয়েটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তারা এই রায় দেন। কিন্তু তারা সেই রায় মানেননি। তাদের মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে কাটাখালি থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় ওই তরুণীর মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

এরপরই অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু পলাতাক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

ওসি আরো বলেন, পাষবিকতার শিকার ওই ছাত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। এনিয়ে আইনত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

আপনার মন্তব্য