৩ লাখ টাকা হলেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন মাহমুদুল

8
৩ লাখ টাকা হলেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন মাহমুদুল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : ২০১৬ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদন্ড অক্ষম হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান বাবু (৩৫)।

এরপর প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা করতে পারেনি মাহমুদুল। ফলে মেরুদন্ড অক্ষম হয়ে ২৪ ঘন্টা প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে শয্যাশায়ী ও অনুভূতিহীন অবস্থায় রয়েছে বাবু।

প্রায় ৩ লক্ষ টাকা হলেই চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন মাহমুদুল হাসান বাবু।

দিনমজুর কৃষক বাবার পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা অসম্ভব, তাই বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা হয়নি।

মাহমুদুলের পরিবার ও প্রতিবেশীদের থেকে জানা যায়, বাবা-মার ৩ ছেলেমেয়ের দ্বিতীয় সন্তান মাহমুদুল হাসান বাবু বালিয়াডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৮ম শ্রেণীর পাশ করার পর অর্থাভাবে আর পড়াশোনা করতে পারেনি। ট্রাকে হেলপারের কাজ শুরু করে। এরপর ২০১৬ সালের ০৬ জুন দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে সারাজীবনের কান্না হয়ে আসে একটি সড়ক দুর্ঘটনা।

সেদিন ৮ বছরের অভিজ্ঞ ড্রাইভার মাহমুদুল হাসান বাবু গাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন, আর ট্রাক চালাচ্ছিলেন তার সহযোগী হেলপার। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে চাল ভর্তি ট্রাকটির চাকা পিছলে রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের গাছে ধাক্কা দেয়। আর এতেই জীবন্ত থেকেও মৃত বনে যায় বাবু।

মাহমুদুল হাসান বাবু জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মাথায় রড ঢুকে যায় এবং মেরুদন্ড ভেঙ্গে যায়। এমনকি পায়ে অনেক ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং পায়ে ব্যাপক জখম হয়।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাশেই মমতাজ ক্লিনিকে ২-৩ ঘন্টা চিকিৎসা দেয়ার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এরপর সেখানে ১০দিন চিকিৎসার পর শারীরিক অক্ষমতা ও অনুভূতিহীনতা নিয়েই বাসায় ফিরে আসেন মাহমুদুল।

তিনি আরো জানান, সড়ক দুর্ঘটনার সময়ে তার সহকারী হেলপারের বুকে ব্যাথা পায়, তবে চিকিৎসা শেষে সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

মাহমুদুলের বাবা বর্গাচাষী মোশাররফ হোসেন বলেন, চিকিৎসার জন্য পরে রাজধানী ঢাকায় সিআরপি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

চিকিৎসকরা জানান, মেরুদন্ড অক্ষম হওয়ায় ও সবসময় সবসময় সুয়ে থাকার কারনে মেরুদন্ডের নিচে ও দুই পায়ের বিভিন্ন জায়গায় ৪-৫টা বড় ও ৩-৪টা ছোট ঘা হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লাগবে এবং প্রতি ১০০ দিন পর পর ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে। আমাদের সেই খরচ করার সার্মথ্য নেয়, তাই ফেরত নিয়ে চলে এসেছি। অন্যের জমিজমা চাষাবাদ করি, এতোগুলো টাকা কোথায় পাবো?

তিনি আরো বলেন, গত ২০-২৫ দিন আগে রাজশাহী শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আল-মামুনকে সকল রিপোর্ট দেখিয়েছি। তিনি বাংলাদেশ স্পাথিক অ্যান্ড অর্থপেডিক হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. শাহ আলমের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে গেলেও চিকিৎসার জন্য ৩ লক্ষাধিক টাকা লাগবে, তাই যেতে পারছি না।

নিজের শারীরিক অক্ষমতা ও নানা সমস্যা নিয়ে মাহমুদুল বলেন, মেরুদন্ডের নিচ হতে পায়ের তালু পর্যন্ত সবসময় প্রচন্ড ব্যাথা করে। ১ সেকেন্ডের জন্য আরাম পায় না। এতো ব্যাথা হয় মনে হয়, সারা দুনিয়ার সমস্ত ব্যাথা আমাকেই লাগছে। হাঁটতে, দাঁড়াতে, বসতে কিছুই পারি না। প্রসব-পায়খানায় তেমন অনুভূতি পায় না, যা হয় তা অতি সামান্য। প্রত্যেক মাসে ৫-৬ হাজার টাকার ওষুধ খেতে হয়, এই সামান্য খরচ করে গিয়েও অনেক ধারদেনা হয়ে গেছে।

সকলের একটু প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আবারো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে মাহমুদুল। বেঁচে থাকবে মানবতা।

আপনার মন্তব্য