কসমেটিকস পছন্দ না হওয়ায় আত্মহত্যা নববধূর 

স্টাফ রিপোর্টার, তানোর: রাজশাহীর তানোরে রহিমা খাতুন (৩৮) নামের দুই সন্তানের জননীকে শ^াসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কলমা ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর বলদীপাড়া এলাকার স্বামীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে তানোর থানা পুলিশ।

নিহত রহিমা খাতুন ওই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী। তার ১০ ও ৭ বছর বয়সি দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। এই ঘটনায় বিকেলে নিহত রহিমা খাতুনের বাবা আফতাব উদ্দিন বাদি হয়ে তানোর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

স্বামী আশরাফুল ইসলাম (৪৫) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোসলেমা বেগমকে (৩৫) ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক তারা।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিকেলে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শ^াসরোধে হত্যার অভিযোগে নিহতের বাবা মামলা দায়ের করেছেন।

ওই মামলায় নিহতের স্বামী ও সতিনকে আসামী করা হয়েছে। পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। এনিয়ে পুলিশ আইনত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান ওসি।

অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, ১৮ বছর আগে উপজেলার গঙ্গারামপুর বলদীপাড়া এলাকার মৃত অসিম উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলামের সাথে একই উপজেলার মালবান্ধা শাল্লাপাড়া এলাকার আফতাব উদ্দিনের মেয়ে রহিমা খাতুনের বিয়ে হয়। এই দম্পতির ১২ ও সাত বছরের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর থেকেই স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন রহিমা খাতুন। এক পর্যায়ে তার স্বামী অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছায়। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে মারধর করে রাহিমা খাতুনকে বাড়ি থেকে বেরও করে দেন আশরাফুল।

স্থানীয়ভাবে সালিশের পর রহিমা খাতুনকে স্বামীর বাড়িতে রেখে আসেন স্বজররা। পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী ও সতিন মিলে তাকে শ^াসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান।

Leave a Reply