বানায় ঘেরা বিলসুতি, মৎস্যজীবিরা অনাহারে

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে উন্মুক্ত জলাশয় ‘বিলসুতি’ তে বানা (বাঁশের বেড়া) দিয়ে মাছ চাষ করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে বানা অপসারণসহ জলাশয়টি উন্মুক্ত করতে জেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবিরা। রোববার বেলা ১১টায় হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের চড়কতলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে তদন্ত কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

এর কিছু পরই উভয়পক্ষের উত্তেজনা শুরু হলে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তবে বিষয়টি সুরহা না হলে যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন ও রাজশাহী বাঘমারা উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে এ উন্মুক্ত জলাশয় ‘বিলসুতি’। এ জলাশয়ের উপর হাটকালুপাড়া, বড় শিমলা, চকশিমলা, ছোট শিমলাসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৭০০ মৎস্যজীবি পরিবার মাছ শিকার করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

এ জলাশয়ে আষাঢ় থেকে অগ্রহায়ণ (৬মাস) পর্যন্ত পানি থাকে। বার বার স্থানীয় প্রভাবশালী হাটকালুপাড়া, শিমলা মৌজা ও বিলসুতি বিল উত্তর অংশ মৎস্যচাষ প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল কাদের, সাধারন সম্পাদক আহসান, রমজান আলী শেখ, হবিবুর রহমান, মুনছুর রহমান, কামরুজ্জামান বাবুল ও মোজাম্মেল হক সহ কয়েকজন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ উন্মুক্ত জলাশয়ে বানা দিয়ে মাছ চাষ করছে।

গত চার বছর থেকে বাঁধ ও বানা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে মাছ চাষ করে আসছেন তারা। মৎস্যজীবিদের জলাশয়ে মাছ শিকার করতে দেয়া হয়না। মাছ শিকারের জন্য জলাশয়ে নামলে নৌকা ডুবিয়ে দেয়া হয়, মারপিট করা হয় এবং ঘারবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়ার অভিযোগ করা হয়। এতে করে মৎস্যজীবিদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

এদিকে মৎস্যচাষীদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য মৎস্যজীবিদের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নিকট জলাশয়টি উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবিরা।

গজমতখালী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সহসভাপতি জামিল হোসেন, হাটকালুপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি জামাল উদ্দিন, সদের আলী, গৃহবধু রোকেয়া বেগম সহ অনেকেই বলেন, মাছ শিকার করে আমাদের সংসার চলে।

গত কয়েক বছর থেকে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল জলাশয়ে মাছ চাষের নামে প্রজেক্ট করে আমাদের নামতে দেয়া হচ্ছে না। জবরদখল করে প্রভাবশালীরা বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে কয়েক দফা বানা ও বেড়া সরিয়ে ফেলা হলেও আবার প্রভাবশালীরা জলাশয়টি দখলে নিয়েছে। মাছ শিকার করতে গেলে নৌকা ডুবয়ে ফেলা, জাল নষ্ট ও মারপিট করা হয়।

এমনকি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। বর্তমানে সংসার চালানো আমাদের কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে রিক্সা চালানো ও পোশাক কারখানায় কাজ করছে।

জলাশয়টি উন্মুক্ত করা সহ স্থায়ী ভাবে এর সমাধান হোক এই আমাদের দাবী। তারা অভিযোগ করে বলেন- উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। এ কারণে মৎস্যচাষীদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য একটা প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল কাদের, আহসান ও হবিবুর রহমান বলেন, ব্যক্তিমালিকানা জমিতে অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকায় ঠিকমতো ফসল হয়না। বন্যার সময় জমিতে পানি উঠায় বানা দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে মৎস্যজীবিদের কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছেনা। ধানের চেয়ে মাছ চাষ লাভজনক। এছাড়া মৎস্যজীবিদের হুমকি ও নৌকা ডুবিয়ে দেয়ার বিষয়টি ঠিক না।

আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেব নাথ বলেন, তদন্ত চলার কিছু পরই উভয়পক্ষ উত্তেজনা শুরু হলে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখান থেকে চলে আসা হয়েছে। তবে বর্তমানে যারা দখলে রেখেছেন তাদের সঙ্গে মৎস্যজীবিদের আপোষ করতে বলার বিষয়টি ভিত্তিহীন। আমার উপর অনেকের ক্ষোভ থাকতে পারে। আইনের বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ছানাউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আমরা ইতোপূর্বে কয়েকবার অবৈধ বাঁধ ও বাঁশের বেড়া উচ্ছেদ করেছি। তবে জলাশয়টি যেন উন্মুক্ত হয় সে বিষয়টি দেখা হবে।

Leave a Reply