নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গায় মাছ চুরির অভিযোগ আনায় চন্দন সিং (১৪) নামের এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৬ আগস্ট) রাতে নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব-মাধনগর গ্রামে। 

চন্দন সিং পূর্ব-মাধনগর কলেজ পাড়া এলাকার প্রদীপ সিং এর ছেলে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে পূর্ব-মাধনগর এলাকার জনৈক আব্দুর রাজ্জাক এর পুকুরে মাছ চুরি হয়। এতে আব্দুর রাজ্জাক এলাকার জনৈক ফটিকের ছেলে নাজমুলকে চিহ্নিত করে স্থানীয় বাজার কমিটির কাছে নালিশ করে।

বাজার কমিটির সভাপতি ডলার শুক্রবার বিকালে এলাকার প্রধান আফজাল মৃধা, আতাউর, হাফিজ, খাত্তাব, মামুন কালু, সোহেলসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।

সেখানে অভিযুক্ত শামীম, ফয়সাল এবং চন্দন সিং নামে তিন কিশোর হাজির হলেও মূল অভিযুক্ত নাজমুল উপস্থিত না হওয়ায় সালিশ হয়নি। পরে চুরির অভিযোগ আনায় বাড়ি ফেরার পথে চন্দন সিং কীটনাশকের দোকান থেকে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট কিনে খায়।

এতে সে গুরতর অসুস্থ হয়ে মাধনগর ডিগ্রি কলেজের পেছনে মাটিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারের কছে খবর দেয়।

পরিবারের লোকজন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চন্দনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু চন্দনের পরিবারের কারও কাছে কোনো টাকা-পয়সা না থাকায় তাকে ফিরিয়ে নিয়ে নলডাঙ্গা পৌরসভার অধীন বুড়িরভাগ এলাকার জনৈক পল্লী চিকিৎসক মাসুদ রানার কাছে নিয়ে যায়।

সেখানে মাসুদ রানা চন্দনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে চিকিৎসা না দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখান থেকে মাধবনগর নিয়ে যাওয়ার পরে গভীর রাতে চন্দনের মৃত্যু হয়। 

সালিশের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযোগকারী আব্দুর রাজ্জাক জানান, যেদিন মাছ চুরির ঘটনায় নাজমুলকে ধরা হয়, সেদিন কোনো একটি কাজে মাধবনগরে পুলিশ এসেছিল।

সেদিন তাদের সামনে বিষয়টি জানালে তারা স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক বাজার কমিটির সভাপতি ডলারের কাছে মাছ চুরির ব্যাপারে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। 

বাজার কমিটির সভাপতি ডলার জানান, মাছ চুরির অভিযোগ পেয়ে তারা শুক্রবার বিকালে এলাকার প্রধানদের সমন্বয়ে সালিশের আয়োজন করেন। কিন্তু সেই সালিশে মূল অভিযুক্ত নাজমুল উপস্থিত না হওয়ায় রোববার (৯ আগস্ট) উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

সালিশের আয়োজক ও বাজার কমিটির সভাপতি ডলার এবং এলাকার প্রধান আফজাল মৃধাকে এই সালিশ বৈঠকের আয়োজনের এখতিয়ার আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, থানা থেকে তাদের এই সালিশ করার জন্য বলা হয়েছে। তাই তারা স্থানীয় ভাবে মীমাংসার জন্য এটার আয়োজন করেন। 

এ ব্যাপারে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাছ চুরির ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি এবং থানা থেকে কাউকে বিচার সালিশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। চন্দনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

চন্দনের বাবা-মা তার মরদেহ নিয়ে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে থাকায় তাদের প্রতিক্রিয়া নেয়া সম্ভব হয়নি। 

Leave a Reply