সব প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিচ্ছে তালেবান

বিদেশ ডেস্ক: আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার চূড়ান্ত করার মধ্যে আক্রমণ বাড়িয়েছে তালেবান। সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধারা প্রথমে বনাঞ্চল, গ্রাম ও ছোট শহরে হামলা চালিয়ে সেগুলো দখলে নিয়েছে।

দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চল এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। কৌশল পরিবর্তন করে দেশটির বড় বড় শহর বিশেষ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানীতে হামলা শুরু করেছে তারা।

এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত, লস্করগাহ ও কান্দাহারের দখল নিতে আফগানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে কট্টরপন্থিরা। এমনকি রাজধানী কাবুলেও হামলা চালিয়েছে তারা।

দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা করা হচ্ছে। শুক্রবার সরকারের গণমাধ্যম তথ্যকেন্দ্রের প্রধানকে গুলি করে হত্যা করেছে সশস্ত্র যোদ্ধারা। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

আফগানিস্তান থেকে ২০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ৩১ আগস্টের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলো। ইতোমধ্যে দেশটি থেকে ৯০ শতাংশ সেনা সরানো হয়েছে।  তবে তাদের দাবি দেশটির ৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কট্টরপন্থিরা।

ইরানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী হেরাত, হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্করগাহ এবং কান্দাহারে লড়াই তীব্রতর হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন তালেবান কমান্ডার জানান, তারা এখন এসব শহর দখল করতে উচ্ছুক।

কান্দাহারভিত্তিক এক কমান্ডার তাদের সামরিক প্রধান মোল্লাহ ইয়াকুবের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি, তাহলে তালেবান কেন সমঝোতা চুক্তি মেনে চলবে। ইয়াকুব কান্দাহার ও হেরাত দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন হেলমান্দ এবং পরে দখল করা হবে কুন্দুজ, খোস্ত ও অন্যান্য প্রাদেশিক শহর। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কান্দাহার ও হেরাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি দখল করা।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, তালেবানের আক্রমণ নীতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্নেষক আফসানদিয়ার মির বলেন, তালেবান যোদ্ধারা প্রাদেশিক রাজধানীগুলোর দিকে এগোচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাব দিতেই এই নতুন হামলা। তালেবান দেখিয়ে দিয়েছে, তারা এখন শুধু বাণিজ্যিক পয়েন্ট দখল করেই ক্ষান্ত হবে না।

Leave a Reply