আফ্রিকায় এবার ‘মারবার্গ’ ভাইরাস

বিদেশ ডেস্ক: ইবোলা ও করোনাভাইসের মতো আফ্রিকায় ছড়াতে শুরু করেছে মারবার্গ। এটি প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায়। গিনিতে এই রোগে আক্রান্ত একজন শনাক্ত হয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ডব্লিউএইচও বলেছে, ২ আগস্ট গিনির গুয়েকেদৌ এলাকায় একজন মারা যান। ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে জানা যায়, তিনি মারবার্গ ভাইরাসে সংক্রমিত। সংস্থাটি বলেছে, এই ভাইরাস বাদুড় থেকে ছড়িয়ে থাকে। এতে মৃত্যুর হার ৮৮ শতাংশ।

মারবার্গ ভাইরাস এর আগেও ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এর আগে ১৯৬৭ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টেও মারবার্গ ছড়িয়েছিল। এ ছাড়া সার্বিয়ার বেলগ্রেডেও ছড়িয়েছিল ওই ভাইরাস। পরে মারবার্গের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়।

মূলত পরীক্ষাগারে গবেষণা কাজ করতে গিয়ে এই ভাইরাস ছড়িয়েছিল। ওই সময় উগান্ডা থেকে জার্মানিতে বানর আনা হয়েছিল গবেষণার জন্য। এর থেকে সেখানে অসুখটি ছড়ায়।

এটি যে আফ্রিকা থেকে ছড়িয়েছিল, তার অন্যতম উদাহরণ হলো, ঠিক একই সময় উগান্ডা, অ্যাঙ্গোলা, কঙ্গো, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় মারবার্গ ছড়ায়।

এরপর ২০০৮ সালে আবারও দুজন মারবার্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই দুজন উগান্ডার একটি গুহায় গিয়েছিলেন, যেখানে বাদুড় রয়েছে।

নতুন করে মারবার্গ ছড়ানো প্রসঙ্গে ডব্লিউএইচওর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক মাতসিদিসো মোয়েতি বলেন, এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কারা সংক্রমিত হয়েছেন এবং তাদের সংস্পর্শে কারা এসেছেন, তা চিহ্নিত করতে হবে।

গিনিতে মারবার্গের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মাত্রার সতর্কবার্তা দিয়েছে ডব্লিউএইচও। তারা বলেছে, গিনি ও এই অঞ্চলের জন্য এই ভাইরাস উচ্চপর্যায়ের হুমকি। তবে বৈশ্বিকভাবে এটি ছড়ানোর ঝুঁকি কম।

গিনিতে ইবোলার সংক্রমণ বেড়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, গত বছর থেকে সেখানে আবারও ছড়াতে শুরু করেছে ইবোলা। এতে এ পর্যন্ত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মারবার্গ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মাতসিদিসো মোয়েতি বলেন, ‘এ নিয়ে সতর্ক থাকতে এবং দ্রুত তদন্ত করতে আমরা গিনির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ কারণ যিনি মারা গেছেন, তিনি সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ার সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল এলাকার বাসিন্দা।

Leave a Reply