শাস্তি পেয়ে বদলি, অফিস করেননা সিবিএ নেতা!

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: অর্থ আত্মসাত ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ ছিলো বিএমডিএ কর্মচারী লীগের (রাজ-৩০৪২) সাংগঠনিক সম্পাদক রইজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

ওই ঘটনায় তার দুই বছর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছিল। একই সাথে দুই বছর নিবিড় নজরদারিতে রেখে তাকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বগুড়ার দুপচাঁচিয়া জোনে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।  

এর আগে বিএমডিএর সহকারী মেকানিক রইজ উদ্দিন  পবা জোনে কর্মরত ছিলেন। সেখানেই ঘটান যত অনিয়ম। 

কিন্তু শাস্তিমূলক বদলির পরও এই সিবিএ নেতা চলছেন ইচ্ছেমত। গত ‍দুই মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। 

তার সময় কাটে বিএমডিএ সদর দফতরের সিবিএ অফিসে আড্ডা দিয়ে। সিবিএ নেতা হওয়ায় তিনি অনিয়ম করেও পার পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এদিকে, রইজ উদ্দিন পরিবার নিয়ে বসবার করেন বিএমডিএ সদর দফরের আবাসিক এলাকায়। রোববার (৮ আগস্ট) দুপুরের দিকে গিয়ে তাকে সেই বাসায় পাওয়া যায়। 

কর্মস্থলে না যাবার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোববার তার করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার দিন ছিল। এ জন্যই তিনি কর্মস্থলে যাননি। 

বিষয়টি তিনি জোন প্রধানকে মৌখিকভাবে ছুটি নিয়েছেন। এর আগেও একই ভাবে ছুটি কাটিয়েছেন তিনি।

রইজ উদ্দিন দাবি করেন, নন্দীগ্রাম ও কাহালু এলাকার মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন তিনি। পরিবার রাজশাহীতে থাকায় এখান থেকেই তিনি কর্মস্থেলে যান। 

গত বৃহস্পতিবারও তিনি ওই এলাকায় গিয়েছেন। সিবিএর প্রভাব কাজে লাগিয়ে অফিস ফাঁকি দেয়ার প্রশ্ন ওঠেনা।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রইজ উদ্দিন কর্মস্থলেই যাননি। অন্তত: গত দুই মাস ধরে তিনি অনুপস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে তাকে সদর দফতর এলাকায় দেখা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। কিন্তু ভয়ে এনিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। 

রইজ উদ্দিনের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করলেও সিবিএ নেতাকে আড়াল করার চেষ্টা করেন বিএমডিএর দুপচাঁচিয়া জোনের সহকারী প্রকৌশলী এসএম মিজানুর রহমান। প্রথমে তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনে রইজ উদ্দিন ছুটি নিয়েছেন।

কিন্তু টানা দুই মাসের ছুটি কোন নিয়মে জানতে চাইলে জোন প্রধান বলেন, বিষয়টি তার (রইজ উদ্দিন) তার কাছে থেকেই জানতে হবে।

পরে সহকারী প্রকৌশলীকে মৌখিক ছুটি নেয়া বিষয়ে রইজ উদ্দিনের স্বীকারোক্তির বিষয়টি জানানো হয়। এসময় তিনি দাবি করেন, রইজ উদ্দিন অসুস্থতার কথা মৌখিক ছুটি নিয়েছেন। তিনি প্রায়ই এইভাবে ছুটি নেন।

অধস্তন কর্মীর অফিস ফাঁকিতে তার দায় আছে কি না জানতে চাইলে এসএম মিজানুর রহমান দাবি করেন, এ নিয়ে তার কোনো দায় নেই। বিসিএ নেতার ভয়ে তাকে আড়াল করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে সেটিও অস্বীকার করেন জোন প্রধান।

সিবিএ নেতার অফিস ফাঁকির বিষয়টি জানতে কয়েক দফা চেষ্টা করেও  বিএমডিএর বগুড়া রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী কুদরতে এলাহির মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এনিয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বিএমডিএ সূত্র জানাচ্ছে,দায়িত্বপালনে অবহেলা, অসদাচরণ, শৃংখলা ভঙ্গ ও চুরি, অর্থ আত্মসাৎ এবং তহবিল তসরুপের আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল রইজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট তার বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় অভিযোগ দায়ের হয়। 

এরপর এই অভিযোগের জবাব দাখিল করেন রইজ উদ্দিন। তার সেই জবাবে গরমিল পাওয়ায় বিএমডিএর দুর্গাপুর জোনের সহকারী পৌশলী আবু সাদাত মো. সায়েমকে অভিযোগ তদন্তভার দেয়া হয়। সরেজমিন তদন্ত করে দুটি বাদে ছয়টি অভিযোগেরই প্রমাণ পায়। 

পরে চাকরি বিধিমালা ১৯৯৩ এর ৩৭ (ক), (খ), (ঙ) এবং (চ) উপবিধি মোতাবেক পরে রইজ উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে বিএমডিএ। এরপর ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর শাস্তির মুখে পড়েন রইজ উদ্দিন।

আদেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত রইজ উদ্দিন পর্যক্ষেণে আছেন কি না জানতে চাইলে এনিয়েও মন্তব্য করতে অপারগতা জানান সচিব বিএমডিএর সচিব ইকবাল হোসেন।  সিবিএ নেতার ছুটি নিয়েছেন কি-না জানতে চাইলেও  মন্তব্য করতে রাজি হননি সচিব।

তবে তিনি বলেন, ছুটি নিতে হলে অবশ্যই দরখাস্ত করতে হবে। জোন থেকে দরখাস্তের কপি তার দফতরে আসে। কিন্তু রইজ উদ্দিনের ছুটির দরখাস্ত এসেছে কি না তা তার জানা নেই।  

Leave a Reply