বগুড়া-প্রিয় নওগাঁ

বগুড়া: গ্রাহকের জামানতের দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছে নবনুর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে বগুড়ার একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। টাকা ফেরত পেতে মঙ্গলবার গ্রাহকরা মহাসড়কে মানববন্ধন করেছে।
 

জানা যায়, সদরের বাঘোপাড়া এলাকায় কয়েকজন যুবক নবনুর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে একটি এনজিও খুলে সদস্য ভর্তি করতে থাকে। তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা এনজিওটি গ্রাহকদের অল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ৩০০ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা সঞ্চয় হিসেবে গ্রহণ করে।

এ ছাড়া আরও প্রায় ৪০ জন গ্রাহককে মোটা অঙ্কের লাভ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা জমা নেয়। কেউ কেউ প্রতি মাসে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে মাসে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপোজিটও করে ওই এনজিওতে।

এক বা দুই বছর মেয়াদি এসব ডিপোজিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে টাকা তুলতে গেলে এনজিও কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করতে থাকে। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক মাস আগে সালিশ হয়।

এতে এনজিও কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকার করেও নির্দিষ্ট তারিখে টাকা না দেওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এদিকে, এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাপাত্তা হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার গ্রাহকরা মানববন্ধন করেন।

মঙ্গলবার মানববন্ধনে আসা সোনাভান বিবি নামে এক বিধবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে গত দু’বছর ধরে নবনুর সমিতিতে ৬২ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছি, এখন তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না।

এফডিআর করা সদস্য আনিছার বলেন, বেশি লাভের আশায় আমি নিজে ৯ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। এ ছাড়া এলাকার রতন ৩ লাখ টাকা, সরাফত ৫ লাখ, আবুল কালাম ৩ লাখ, সাফিউল ৩ লাখ, সাইফুল ৩ লাখ, লিলি বেওয়া ২ লাখ, মান্না ৩ লাখ টাকা জমা রেখেছেন।

এমন ৪০ জন গ্রাহকের এডিআর করা টাকা সমিতি কর্তৃপক্ষ ফেরত দিতে টালবাহানা করছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলমগীর হোসেন চঞ্চলসহ সংস্থার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সবাই এখন গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চঞ্চলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমানতকারীদের টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সংস্থার গ্রাহকরা ভুল বুঝছেন।

তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় আপাতত একটু বাইরে আছি। কয়েকদিন পর এলাকায় গিয়ে সবার সঙ্গে দেখা করব।

Leave a Reply