মামা শ্বশুরের নামে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা বিধবার

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীর তানোরে বিধবার খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন উত্তম কুমার কর্মকার (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে। সোমবার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার পালপাড়া (হিন্দুপাড়া) এলাকার ওই নারীর শোবার ঘর থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পেশায় দলিল লেখক উত্তম চন্দ্র কর্মকার একই গ্রামের মৃত পূর্ণচন্দ্র কর্মকারের ছেলে। বিধবা ওই নারীর সম্পর্কে মামা শ্বশুর হন তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন, রোববার (১ আগস্ট) রাতে এক সন্তানের জননী ওই নারীর (২৪) শোবার ঘরে ঢুকেছিলেন উত্তম চন্দ্র কর্মকার। 

তা দেখে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন ওই বিধবার দেবর সুফল চন্দ্র দাস (৩১)। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

বিধবার দেবর সুফল চন্দ্র দাস দাবি করেন, বিধবা বৌদির সাথে উত্তম কুমার কর্মকারকে তিনি আপত্তিকর অবস্থায় আটকেছেন। তিনি আসলে লম্পট প্রকৃতির লোক।

এর আগেও রেজিস্ট্রি অফিসের এক নারী কর্মীকে ধর্ষণ চেষ্টা চালান উত্তম। উপজেলার মোহর গ্রামের এক আদিবাসী যুবতিকেও ধর্ষণ চেষ্টা চালান তিনি। কিন্তু বরাবরই টাকার জোরে পার পেয়ে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিধবা ওই নারীর সাথে দেবরের বিরোধ চলে আসছে। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ নিজে বাড়িতে দেবরের ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হন ওই নারী। 

এই ঘটনায় পরে দেবরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি। ওই মামলার সাক্ষি হিসেবে রয়েছেন প্রতিবেশী উত্তম চন্দ্র কর্মকার। 

এই মামলায় গ্রেফতারের পর জেলহাজতেও ছিলেন দেবর সুফল চন্দ্র দাস। এর আগেও বৌদিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতে তার সাজা হয়। 

বড়ভাইয়ের মৃত্যুর পর কৌশলে বাবা ত্রিনাথ চন্দ্র দাসের সব সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে সুফলের বিরুদ্ধে। 

বৌদিকে বাড়ি থেকে উৎখাত করতে তিনি মিথ্যা অভিযোগ আনছেন বলেও জানিয়েছেন প্রতিবেশীদের কেউ কেউ। তবে সম্প্রতি উত্তমের সাথে ওই বিধবার ঘনিষ্টতা বেড়েছে বলেও জানিয়েছে কয়েকজন প্রতিবেশী।

জানতে চাইলে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুজনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই বিধবা জানিয়েছেন, তিনি ধর্ষণ চেষ্টা কিংবা ধর্ষণের শিকার হননি। উত্তম চন্দ্র কর্মকার তার সাথে কথা বলতে এসেছিলেন। তাকে বাইরে থেকে আটকে দেন তার দেবর সুফল। 

আগের সব ঘটনা পর্যালোচনা করে ওই নারীকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায়  উত্তম চন্দ্র কর্মকারকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply