মামা শ্বশুরের নামে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা বিধবার

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মামা শ্বশুরের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগের এনেছেন বিধবা ভাগ্নেবউ। রোববার ( ২২ আগস্ট) রাজশাহীর তানোর থানায় মামা শ্বশুর উত্তম কুমার কর্মকারের (৪০) নামে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

অভিযুক্ত উত্তম কুমার কর্মকার তানোরের পালপাড়া হিন্দুপাড়া এলাকার পূর্ণ কুমার কর্মকারের ছেলে। ভুক্তভোগী বিধবা (২৬) তার দু:সম্পর্কের ভাগ্নেবউ। তিনিও একই গ্রামের বাসিন্দা। বছর তিনের আগে তার স্বামী মারা যান।

আট বছর বয়সি ছেলেকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন ওই বিধবা। প্রায় আড়াই বছর ধরে বিয়ের প্রলোভনে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছেন মামা শ্বশুর উত্তম কুমার।

গত ২ আগস্ট বিধবার বাড়িতেই তাদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী মামলা না করায় শেষ পর্যন্ত মামা শ্বশুর উত্তম কুমারকে সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে তোলে পুলিশ।

ওই দিনই তিনি জামিনে বেরিয়ে যান। এরপর ভাগ্নেবউয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যান উত্তম। কিন্তু বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এনিয়ে এক দফা আত্মহত্যারও চেষ্টা চালান বিধবা। এলাকাবাসী ও তানোর থানা পুলিশের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন: বিধবার খাটের নিচে মামা শ্বশুর!

এদিকে, মামা শ্বশুরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ওই বিধবা উল্লেখ করেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছেন উত্তম। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গত ৭ আগস্ট তাকে অপহরণ করে রাজশাহীতে নিয়ে আসেন।

এরপর ১০ থেকে ১২ আগস্ট তানোরের ভারসো এলাকায় এক বোনের বাসায় নিয়ে অবস্থান করেন। ওই সময় বিয়ের প্রলোভনে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন উত্তম। এরপর ১২ আগস্ট তাকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণেশপাড়ায় আরেক আত্মীয়র বাড়িতে যান। সেখানে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এরপর তাকে নিয়ে ফিরে আসেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি এলাকায়র আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে ২১ আগস্ট পর্যন্ত একই কায়দায় দফায় দফায় তাকে ধর্ষণ করেন মামা শ্বশুর। বিয়ের জন্য চাপ দিলে ২১ আগস্ট বিকেলে তাকে নিয়ে রাজশাহী নগরীর কুমারপাড়া গঙ্গা মন্দিরে যান। কিন্তু বিয়ে না করে তালবাহানা করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বোয়ালিয়া মডেল থানায় গড়ায়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, রোববার বিকেলে উত্তম কুমার কর্মকারের নামে ওই বিধবা অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৩।

রোববার সন্দেহভাজন হিসেকে উত্তম কুমারকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। তানোর থানা পুলিশ এই মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাচ্ছে। এছাড়া ভুক্তভোগী ও নারীকে সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply