লাদেন থাকেন কুষ্টিয়ায়, ৬ ফুট লম্বা দাড়ি

প্রিয় দেশ ডেস্ক: ডাক নাম লাদেন। পুরো নাম মাহতাব উদ্দিন। ৭০ বছর বয়সি এই বৃদ্ধ থাকেন কুষ্টিয়ায়। নাম নয়, তার বিশেষত্ব দাঁড়িতে। 

লাদেনের উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি হলেও তার দাড়ি এখন ৬ ফুট লম্বা। তার দাবি- এতো বড় দাড়ি বাংলাদেশে আর কারও নেই। 

লম্বা দাড়ির কারণে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। হাসিখুশি ও সাদাসিদে মানুষ হওয়ায় সবাই তাকে পছন্দ করেন। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় দাড়ি রেখেছেন এই লালনভক্ত। 

মাহতাব উদ্দিন লাদেন দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের পাকুল্লা গ্রামের মৃত হারেজ আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি কৃষক পরিবারের সন্তান। গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক ও আমলা হাই স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। 

বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরি করছেন। কয়েক বছর আগে কুষ্টিয়া শহরে বসবাস করলেও তিনি এখন গ্রামের বাড়ি পাকুল্লায় বসবাস করেন।

 চাকরির পাশাপাশি কৃষিকাজ ও গরু পালন করেন। স্কুলজীবনে তিনি খুব ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। ফুটবল, হাডুডু, ঝাঁপ ও দৌড়ের জন্যও তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। ১২ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। লাদেন দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জনক। 

পাকুল্লা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, লাদেনের বাপ-দাদাদের লম্বা লম্বা দাড়ি ছিল। কিন্তু তার দাড়ি মাটির সমান। তাদের দাড়ির চেয়ে কয়েকগুণ বড়। তিনি লালন ভক্ত মানুষ। 

সাদাসিদে জীবনযাপন করেন বলে সবাই তাকে পছন্দ করেন। তার দাড়ির মতো এতো লম্বা দাড়ি দেখা যায় না। আমরা মনে করি তার দাড়ি দেশের সবার চেয়ে বড়। 

মাহতাব উদ্দিন লাদেন বলেন, আমি ২০০২ সালে আল্লাহর কাছে লম্বা দাড়ি চেয়েছিলাম। কারণ বাপ-দাদার দাড়ি ছিল নাভি পর্যন্ত। আমি তাদের চেয়ে বেশি বড় দাড়ির স্বপ্ন দেখতাম।

 আল্লাহ আমার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আমার দাড়ির বয়স ১৯ বছর। মাটির সঙ্গে লেগে যাওয়ার কারণে তিনবার তিন হাত দাড়ি কেটে ফেলেছি।

তিনি বলেন, আমি ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি মানুষ। বর্তমানে আমার দাড়ি ৬ ফুট (৪ হাত) লম্বা। পাঁচ বছর পর পর দেড় ফুট করে তিনবার কেটেছি। না কাটলে লম্বা দাড়ি মাটির সঙ্গে গড়াগড়ি খায়। দাড়ি না কাটলে আরও লম্বা হতো। 

পবিত্রতা রক্ষার জন্য কেটে ফেলেছি। তা না হলে মাটিতে পড়ে গুনাহ হতে পারে। আমার দাড়ি জট পাকানো নয়। লম্বা, সোজা ও পরিচ্ছন্ন। রাস্তাায় চলাচলের সময় ধুলাবালি থেকে রক্ষা পেতে খোঁপার মতো দাড়ি বেঁধে রাখি। 

লাদেন বলেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় আমি বিভিন্ন জায়গায় যাই। বিভিন্ন মাজারে রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাই। ইচ্ছা আছে সারাদেশের পীর-আউলিয়াদের রওজা জিয়ারত করবো। হজে যাওয়ার নিয়ত আছে। আল্লাহ কবুল করলে যাব ইনশাআল্লাহ। 

তিনি বলেন, আমি একজন লালনভক্ত মানুষ। লালনকে নিয়ে আমার ধ্যান-জ্ঞান। যারা লালন ভক্ত তারা সাধারণত কাজে যুক্ত হয় না। অতি সাধারণ জীবনযাপন করে। মারামারি হানাহানি কোনো কিছুর মধ্যে যায় না। 

সত্য ও সুপথে চলে। তাদের সঙ্গে চলতে ভালো লাগে। এজন্য প্রায়ই লালন সাঁইজির মাজারে যাই। সেখানে লালনভক্তদের সঙ্গে ধর্ম পালন এবং লালন ও জ্ঞান চর্চা করে থাকি। 

লাদেন জানান, তার লম্বা দাড়ি দেখে অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করে। কেউ মন্দ বলে, কেউ ভালো বলে। তবে তিনি অনেক হুজুরের কাছে শুনেছেন তার দাড়ি সুন্নতি। দাড়ির অনেক যত্ন করতে হয়। তেল মাখাতে হয়, শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। 

কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখতে হয় যাতে দাড়ি না ছেঁড়ে। তার স্ত্রী আশানুর বানু দাড়ির যথেষ্ট যত্ন করেন। তিনি বেণী করে দেন, আঁচড়ে দেন, তেল মাখিয়ে দেন। এক বছর পর পর দাড়িতে সুপার ভ্যাসমল তেল দেন। গোসলের সময় দাড়ির পেছনে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করা লাগে। কারণ দাড়ি ছাড়ানো ও ধোয়া সময়ের ব্যাপার। 

এজন্য অনিয়মিতভাবে গোসল করেন না লাদেন। দাড়ি রাখার পর থেকে গত ১৯ বছর ধরে এভাবেই চলছে। তবে এখন বৃদ্ধ বয়সে আগের মতো দাড়ির যত্ন করতে পারেন না। 


মাহতাব উদ্দিন লাদেন বলেন, আমি বহু মাজারে ঘুরেছি, দেশের বহু জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু আমার মত এতো লম্বা দাড়ি দেখিনি। অনেকের কাছে প্রশ্ন করেছি, তারাও দেখিনি এতো লম্বা দাড়ি। 

বাইরে বের হলেই মানুষ সেলফি তোলে আমার সঙ্গে। তারা আমার লম্বা দাড়ি দেখে আবাক হয়ে যায়। কোনো দিন কেউ বলল না, এতো লম্বা দাড়ি দেখেছি। আমি বিভিন্নভাবে জানার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার মতো এতো লম্বা দাড়ি কারও নেই। আমার জানা মতে, বাংলাদেশে আমার দাড়িই সবচেয়ে বেশি লম্বা।

ছেউড়িয়ায় লালন সাঁইজির মাজারে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, লম্বা দাড়িওয়ালা মানুষটির সঙ্গে সবাই ছবি তুলছে দেখে আমরাও ছবি তুলেছি। এতো লম্বা দাড়িওয়ালা মানুষ আমরা কোনোদিন দেখিনি। সেজন্য তার সঙ্গে ছবি তুলেছি। বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের দেখাবো।

আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদ আনছারী বিপ্লব বলেন, লাদেন আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি লম্বা দাড়ি রেখেছেন। দাড়ির জন্য এলাকায় সবার কাছে তিনি পরিচিত।  

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, দাড়ি রাখা প্রিয় নবির (সা.) একটি বিশেষ সুন্নাত। তাছাড়া দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব, মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক।

 দাড়ি রাখার ক্ষেত্রে এক মুষ্টির ওপরে রাখতে হবে। এক মুষ্টির কম রাখা যাবে না। তবে লম্বা রাখা যাবে।  রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দেবে।’

Leave a Reply