বছরজুড়েই মেরামত, তবুও সড়ক মৃত্যুফাঁদ

শামীনূর রহমান: খানাখন্দে ভরা সড়ক। উঠে গেছে পিচ-কনক্রিট। বৃষ্টি হলেই কাদাজল। বছর জুড়েই চলছে মেরামত। তবুও আগের অবস্থায় সড়ক। এখন নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক সড়কের অপর নাম দুর্গতি।

জানা গেছে, জেলার পত্মীতলা, সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট উপজেলা এবং ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জয়পুরহাট জেলায় যাওয়া যায় এ সড়ক দিয়ে। আন্ত:জেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বদলগাছী উপজেলা সদর পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটার। 

বদলগাছী উপজেলা বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল, খাদ্যগুদাম, চাংলা এবং কীর্ত্তিপুর ও পাহাড়পুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে প্রায় ৬-৭ হাজার যানবাহন চলাচল করে। 

এ সড়কে ছয় চাকার পণ্যবাহী ট্রাকের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা (গাড়ির ওজনসহ) ১৫ টন এবং ১০ চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ২২ টন। কিন্তু ৩০-৩৫ টন ওজনের পণ্যবাহী যান চলাচল করছে। যার অধিকাংশই বালুবাহী ট্রাক।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৫ সালে সড়কের সংস্কার ও প্রসস্থকরণ কাজ হয়। আঞ্চলিক এ সড়কে বালু, ইট ও পণ্যবাহী ভারি ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে অধিকাংশ স্থান বসে গেছে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচ ওঠে খোয়া বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও খোয়া ওঠে মাটি ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে পরিণত হয়েছে ছোট ছোট ডোবায়। 

এসব গর্তে প্রায় মালবাহী ট্রাক উল্টে পড়ছে। আবার কখন যানবাহন আটকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বড় বড় গর্তে ইট সোলিং করে যানবাহন চলাচলের উপযোগীর চেষ্টা হলেও কিছুদিন পর আবারও সৃষ্টি হচ্ছে গর্তের। আবার সড়কের কোথাও দুইপাশ নিচু হয়ে মাঝখানে উঁচু হয়েছে। ফলে ঘটছে প্রায় দুর্ঘটনা।

সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশা চালক মিল্টন  হোসেন বলেন, ইট সোলিং দিয়ে গর্ত ভরাট করলেও তেমন সুফল মিলে না। সামন্য বৃষ্টি হলেই গর্তে চাকা বসে যায়। তখন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।


বদলগাছী উপজেলার জিধিরপুর গ্রামের সামসুল হক  বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সড়কে প্রায় মালবাহী ভারি ট্রাকগুলো আটকে যায়। ফলে অন্য যানবাহন চলাচল করতে না পরে যানজটের সৃষ্টি হয়। গত দুই বছর ধরে দেখছি রাস্তার ভাঙা অংশে ইট বিছানো হচ্ছে। অথচ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

বাস চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, রাস্তা ভালো থাকলে নওগাঁ থেকে বদলগাছী যেতে প্রায় ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগতো। এখন ৫০ মিনিটের মতো লাগে। রাস্তা ভাঙাচুরার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলার পাশাপাশি গাড়ি প্রচুর ঝাঁকুনি খায়। ফলে সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাস্তায় মালবাহী ট্রাক আটকে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।


নওগাঁ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, নওগাঁ-বদলগাছী সড়ক নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ভারি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল। যার অধিকাংশ ট্রাকই বালুবাহী।

 রাস্তা সংস্কারে প্রায় দুই বছর আগে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই প্রকল্পটি পাশ হবে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ভাঙা অংশে যানবাহন চলাচলে অফিসিয়ালভাবে ইট-খোয়া ফেলা হচ্ছে।

Leave a Reply