রাজশাহীতে রাত্রীকালীন বিধিনিষেধ উঠল

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: এবার হয়তো রাজশাহী অঞ্চলজুড়ে মহামারি করোনার সংক্রমণ কমল। শনিবার (২৮ আগস্ট) বিভাগের আট জেলার মধ্যে কেবল বগুড়ায় একজন মারা গেছেন করোনায়। এইদিন বিভাগের আট জেলায় করোনা ধরা পড়েছে মাত্র ৬৭ জনের।

ভারতীয় ধরণ ছড়িয়ে পড়ার পর বিভাগে নতুন করোনা শনাক্ত এবং প্রাণহানির সর্বনিম্ন রেকর্ড এটি। 

শনিবার দুপুরের দিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ ডা. ডা. নাজমা আক্তার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, যে কোনো মহামারি একটা পর্যায়ে গিয়ে পিক-এ ওঠে। এরপর সংক্রমণ শক্তি হারিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে নামতে থাকে। নতুন শক্তি নিয়ে ফের সংক্রমণ শুরু হলে আবারোও মহামারি ফিরতে পারে। গত এক বছর ধরে করোনার ক্ষেত্রেও আমরা একটি লক্ষ্য করেছি। 

এটি করোনা ভ্যাকসিনের প্রভাব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি করোনা ভ্যাকসিনের প্রভাব তো বটেই। তবে ভ্যাকসিনের সুফল পেতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। 

তিনি যোগ করেন, করোনা শক্তি হারাচ্ছে এটা ঠিক। নতুন শক্তি নিয়ে সংক্রমণ শুরু না হলে ধরে নেয়া যেতে পারে করোনা অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১২ এপ্রিল বিভাগে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর ১৪ দিনের মাথায় ২৬ এপ্রিল রাজশাহীতে করোনায় প্রথম প্রাণহানি ঘটে। 

করোনা সংক্রমণের প্রায় তিন মাসে ২৯ জুন সংক্রমণ ৫ হাজারে পৌঁছায়। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় একই বছরের  ২০ জুলাই পৌঁছে যায় ১০ হাজারে। সংক্রমণ ২০ হাজার পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় দুই মাস (৩০ সেপ্টেম্বর)। এরপর কিছুটা কমে সংক্রমণের মাত্রা। 

গত মে মাসের শেষের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মারাত্মক সংক্রামক করোনার ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হয়। এরপর জুন থেকে ফের পুরো অঞ্চলজুড়ে বাড়তে শুরু করেন করোনার প্রকোপ। একপর্যায়ে সারা দেশের করোনার হটস্পট হয়ে ওঠে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

 সংক্রমণের সর্বোচ্চ সীমাও পেরিয়ে যায় গত ১৫ জুলাই। ওই দিন বিভাগে করোনা ধরা পড়ে ১ হাজার ২৬৯ জনের। এরপর থেকে ধীরে ধীরে কমছে সংক্রমণ। একই সাথে কমছে মৃতের সংখ্যাও। 

 এর ভেতরেই গত ১৭ আগস্ট বিভাগে প্রাণহানি ছাড়িয়ে যায় দেড় হাজার। আর বিভাগজুড়ে করোনা সংক্রমণ ৯৫ হাজার ছাড়িয়ে যায় গত ২৭ আগস্ট। 

 এদিকে, শনিবার (২৮ আগস্ট) বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের দৈনিক পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ৬৭ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২৭ জন সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। 

এ ছাড়া বগুড়ায় ১৮, রাজশাহীতে ১৩, পাবনায় ৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় একজন করে করোনা শনাক্ত হয়। এই একদিনে নাটোর ও জয়পুরহাটে নতুন করে করোনা শনাক্তের তথ্য মেলেনি।

 এ পর্যন্ত বিভাগে করোনা ধরা পড়েছে মোট ৯৫ হাজার ৬৮ জনের। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৭ হাজার ৭৫০ জন। গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন ৩২৯ জন। 

 করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ৮৬৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে এসেছেন ৫৪ জন।

 বিভাগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৮ জনের প্রাণ নিয়েছে করোনা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বগুড়া জেলায়। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২৯০, নাটোরে ১৬৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৮,  নওগাঁয় ১৩৫, সিরাজগঞ্জে ৯২, জয়পুরহাটে ৫৪ এবং পাবনায় ৪০ জন মারা গেছেন।

Leave a Reply