রাজশাহীতে শামুকখোল হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল এলাকায় শতাধিক শামুকখোল ছানা হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবি উঠেছে।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধন ও সমাবেশ করে এই দাবি জানান রাজশাহীর পরিবেশবাদিরা। দুপুরের দিকে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের জেলা সভাপতি ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সেভ দি নেচার অ্যান্ড লাইফের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-রাজশাহী নগর মুক্তিযদ্ধা সেক্টর্স কমান্ডার ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জোটের আহবায় ডা. মাহফুজুর রহমান রাজ, নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পিয়ারা, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এলিজ্যাবল ইয়ুথ ফর ইভোলিউশন-আই এর প্রতিষ্ঠাতা গোলাম নবী রনি, ক্ষেতলাল পাখি কলোনি সভাপতি মহাসিনা বেগম, গ্রীন ভয়েস আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, প্রমুখ।

মানববন্ধ চলাকালে সমাবেশে বক্তারা বলেন- হাসপাতাল এলাকায় গাছ কেটে শতাধিক পাখি হত্যা করা হয়েছে। গাছ নিধন ও পাখি হত্যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ আইন উপেক্ষা করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি কখনও উন্নয়নের নামে জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস করা যায় না। এঘটনার দায় পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা কখনো দায় এড়াতে পারে না। 

তারা যোগ করেন, পাখি ও গাছ নিধন জীব-বৈচিত্র্যের ওপর একটি বড় ধরনের অশনীসংকেত। এমন নেক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে।

পরিবেশবাদিরা জানিয়েছেন, রাজশাহীর সবচেয়ে বড় শামুকখোল কলোনী ছিল পদ্মাপাড়ের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায়। কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ শুরুর পর সেখানকার প্রকাণ্ড গাছগুলো উজাড় হয়ে যায়।

ঠিকানা হারিয়ে শামুকখোল আশ্রয় নেয় রামেক হাসপাতাল এলাকায়। ২০১৯ সাল থেকে হাসপাতাল এলাকায় গড়ে উঠেছে শামুকখোল কলোনী। 

মাঝেমধ্যেই গাছ কেটে শামুকখোল তাড়ানোর চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এলাকা ছেড়ে যায়নি শামুকখোল। সর্বশেষ গত শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে গাছ কাটা। গ্যারেজ ও ড্রেন নির্মাণে ৩৭টি গাছ কাটার কথা। গত দুই দিনে অন্তত: ২০টি গাছ কেটে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। 

অথছ প্রায় প্রতিটি গাছের বাসায় বাসায় ওড়ার অপেক্ষায় ছিল শামুকখোলের ছানা। প্রথম দিনে বাসা তছনছ হয়ে মাটিতে পড়ে মারা গেছে কিছু ছানা। পড়ে আহত কিছু ছানা জবাই করে নিয়ে গেছেন শ্রমিক ও রোগীর স্বজনরা। সবমিলিয়ে শতাধিক শামুকখোল ছানার প্রাণ গেছে শনিবার।

এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ রাজশাহীর পরিবেশবাদিরা। রোববার সকালে তারা ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থল পরির্শন করেন বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারাও।

পাখি হত্যায় শুরুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। আপাতত গাছ কাটা বন্ধের সুপারিশ করলেও তা আমলে নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply